kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুর্নীতি থেমে নেই

এখনই লাগাম টানতে হবে

৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এর পরও অনিয়মই যেন এখন নিয়ম, দুর্নীতিই যেন নীতি। সরকারি খাত হলে কথাই নেই; এ খাতের দপ্তরে-প্রকল্পে নজরদারি, জবাবদিহি আছে বলে মনে হয় না। সরকারি দপ্তরের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদনের অভাব নেই। তবে সেসব প্রতিবেদনের কথা সংশ্লিষ্টরা কানে তোলেন না। তুললে পরিস্থিতির উন্নতি হতো। বাস্তবে তা হচ্ছে না। নানা ছুতায় অনিয়ম-দুর্নীতি বহাল আছে। উদাহরণ চট্টগ্রাম ওয়াসা। সেখানে ওভারটাইমের নামে হরিলুট চলছে।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে চট্টগ্রাম ওয়াসার ২২৯ জন কর্মচারী দৈনিক আট ঘণ্টা নিয়মিত কাজের জন্য মূল বেতন হিসেবে ৩৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪১ টাকা এবং ২৩ হাজার ৯৯০ ঘণ্টা ওভারটাইম বাবদ ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার ৫৯৫ টাকা তুলেছেন। গত অর্থবছরে ওভারটাইম বাবদ মোট পাঁচ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫৯৪ টাকা তোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরে তোলা হয় পাঁচ কোটি ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ২৫৯ টাকা। এমন অবস্থা হয়েছে যে অনেকে মূল কাজ না করলেও ওভারটাইম ডিউটি করতে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করেন। এ অনিয়মে অব্যক্ত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকট রয়েছে; কাজের চাপও বেড়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসায় পদ রয়েছে এক হাজার ৫০টি; কিন্তু জনবল আছে ৬৫০ থেকে ৭০০ জন। এ সংকটের মধ্যেই গত কয়েক বছরে দুটি পানি শোধনাগার প্রকল্প চালু হয়েছে। ফলে কাজের চাপ বেড়েছে। প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য, কাজের বাড়তি চাপের কারণেই ওভারটাইম করাতে হয়। পানি শোধনাগার বা পাম্প ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হয়। শুক্র-শনিবার কিংবা অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও এসব কাজ বন্ধ রাখা যায় না। স্ট্যান্ডবাই পাম্পগুলোকে যেকোনো সময় চালু করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। ফলে অনেককেই ওভারটাইম করতে হয়।

এ কথা ঠিক, সরকারি অনেক দপ্তরেই জনবলের ঘাটতি রয়েছে। আবার কোনো দপ্তরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনবল রয়েছে। যেখানে ঘাটতি রয়েছে সেখানে ওভারটাইম ডিউটি করার আবশ্যকতা থাকতেই পারে। এ নিয়ে তর্ক করার অবকাশ নেই। কিন্তু কতজন কত পরিমাণে অতিরিক্ত সময়ের কাজ করছে তার একটি রীতি-বিধি থাকা দরকার। অথচ চট্টগ্রাম ওয়াসার মড ৩-এর ৩৬টি পরিত্যক্ত ও স্ট্যান্ডবাই পাম্পেও সচল পাম্পগুলোর সমান হারে ওভারটাইম চলে। গড়বড় এখানেই। রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয়ের চিন্তা কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারী কেউ করে না। এ অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের টাকার সাশ্রয়ী ব্যবহার দরকার। সরকারপ্রধানও বলছেন, সরকারি কাজে যথাযথ তদারকি থাকতে হবে। জনদাবিও তাই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা