kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাড়ছে গাড়ি

ব্যক্তিগত গাড়ি নিরুৎসাহিত করতে হবে

৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবিশ্বাস্য দ্রুততায় বাড়ছে গাড়ি

সারা বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য যে শহরগুলো আছে, তার মধ্যে অন্যতম রাজধানী ঢাকা। এর প্রধানতম কারণগুলোর একটি অস্বাভাবিক যানজট। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি শহরের কমপক্ষে ২০ শতাংশ জায়গা থাকা প্রয়োজন রাস্তা বা চলাচলের জন্য। ঢাকায় আছে সাত শতাংশেরও কম। অথচ এই রাস্তায় গাড়ি চলাচল করে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাত গুণেরও বেশি। এসব গাড়ির একটি বড় অংশই হচ্ছে ব্যক্তিগত। একটি গাড়িতে একজন মানুষ চলাচল করে। অথচ গণপরিবহন পর্যাপ্ত নয়। আছে চূড়ান্ত ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা। প্রায় প্রতিটি রাস্তার পাশে রয়েছে একাধিক বিপণিবিতান, যেগুলোর পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। রাস্তায় গাড়ি রেখে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। অবৈধ পার্কিংয়েরও ছড়াছড়ি। ফুটপাত ছাড়িয়ে হকাররা চলে আসছে রাস্তায়। ফুটপাতে হাঁটার উপায় না থাকায় পথচারীরা নেমে আসছে রাস্তায়। ফলে যানবাহন চলাচলের জায়গা আরো কমে যাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজটের। দুর্ঘটনাও ঘটছে অনেক।

ঢাকা প্রায় সম্পূর্ণরূপে একটি অপরিকল্পিত নগর। এখনো এর চারপাশে যে বৃদ্ধি ঘটছে, তা-ও মূলত অপরিকল্পিত। বাড়িঘর তৈরিতেও নিয়ম মানা হচ্ছে না। বাড়িঘর, দোকানপাট চলে আসছে ফুটপাতের ওপর। ফলে রাস্তা বাড়ানোর কোনো উপায়ই নেই। তদুপরি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ নেই বলে প্রতিনিয়ত এর লোকসংখ্যা বছরে সোয়া পাঁচ লাখের মতো। তার পরও যেভাবে প্রতিনিয়ত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে তা অকল্পনীয়। এক হিসাবে দেখা যায়, প্রতিদিন ঢাকার রাস্তায় যোগ হচ্ছে সাড়ে চার শ গাড়ি। নগর বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি না পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, বসবাস অযোগ্য এই নগরী খুব শিগগির পরিত্যক্ত নগরীতে রূপান্তরিত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঢাকায় সর্বোচ্চ দুই লাখ ১৬ হাজার গাড়ি চলতে পারে। অথচ বিআরটিএতে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ২৩৩টি গাড়ি। বিভিন্ন দেশের বড় শহরে গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গাড়ির চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। দিল্লিতে এখন এক দিন জোর সংখ্যার গাড়ি, এক দিন বেজোড় সংখ্যার গাড়ি চলে। আরো অনেক দেশেই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন গাড়ি নামানোকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। অথচ আমাদের এখানে নতুন গাড়ি নামানোর প্রতিযোগিতা চলছে।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা কমাতে হলে ছোট গাড়ির নিবন্ধন কমাতে হবে; গণপরিবহন বাড়াতে হবে। ঢাকা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের অভিমত, গণপরিবহন, বিশেষ করে বাস চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে পারলে ছোট গাড়ির ক্রেতারা নিরুৎসাহিত হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব ভূমিকা পালন করবে কে? তারা তো সরকারেরই অংশ, তাদেরই এ ভূমিকা পালন করার কথা। আগে ঢাকায় কত গাড়ি চলবে তা নির্ধারণ করা দরকার। সেটি করতে পারলেই ঢাকার রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা