kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদি

দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক

৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর এখন তা একটি স্থায়ী সমস্যা। বাংলাদেশে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। শুরু থেকেই সংকট সমাধানের জন্য বিশ্বের দেশগুলোর সমর্থন লাভের চেষ্টাও করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কূটনীতি সব সময় মিয়ানমারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করেছে। যদিও সংকট শুরুর তিন মাসের মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন সমঝোতা করলেও দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশ্ব সম্প্রদায়ও এ ব্যাপারে একমত যে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এ রকম বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর ভরণ-পোষণের ভার বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশের অনির্দিষ্টকালের জন্য বহন করা সম্ভব নয়।

রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। একদিকে মিয়ানমার মানবাধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ঘোষণা ও সনদ একের পর এক অস্বীকার করে চলেছে। প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের গণহত্যা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশনের বাস্তবিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এদিকে মিয়ানমারের ক্রমাগত অসহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের একার পক্ষেও এই সংকটের সমাধান বের করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে বরাবরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে। নিকট-প্রতিবেশী ভারত এবার এগিয়ে এসেছে। গত রবিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে কয়েক বছর ধরেই ভারতের জোরালো সমর্থন ও ভূমিকা প্রত্যাশা করে আসছে। এবারই প্রথম ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু এত সুনির্দিষ্টভাবে এসেছে এবং এই সংকট সমাধানে কার্যত তাগিদ দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় ঘোষিত যৌথ বিবৃতিতেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি সুনির্দিষ্টভাবে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই আশা করা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান মিয়ানমারের ওপর কিছুটা হলেও চাপ সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশকেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা