kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জয়

ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামতে হবে

৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জয়

অবশেষে অন্ধকার কাটিয়ে আলোর দেখা মিলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট আকাশে। কাঙ্ক্ষিত একটি জয় নিশ্চিতভাবেই বাড়িয়ে দিয়েছে দলের মনোবল। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে প্রতিপক্ষ দলটি ভারত। খেলা হচ্ছে ভারতের মাটিতে। আর ওয়ান ডে, টি-টোয়েন্টি কিংবা টেস্ট—সব ফরম্যাটেই ভারত অনেক দলের চেয়ে এগিয়ে। টি-টোয়েন্টিতে ফরম্যাটে ভারতের অবস্থান পঞ্চম। আর নবম অবস্থানে বাংলাদেশ দল। অর্থাৎ সামর্থ্যের বিবেচনায় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ভারত। কিন্তু যেভাবে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা এককথায় অনবদ্য। বিগত দিনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, মাঠের ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের ক্রমাবনতি ছিল স্পষ্ট। মাঠের বাইরেও নানা ঘটনার জন্য শিরোনাম হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই দেখা গেল নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। করেছে অসাধ্য সাধন। এই ম্যাচে বাংলাদেশের হারানোর কিছু ছিল না, পাওয়ার ছিল অনেক কিছু। পেয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে এটা ছিল ১০০০তম ম্যাচ। সেই ম্যাচটি নিজেদের জন্য স্মরণীয় করে রাখল বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে, তা অতুলনীয়।

সীমিত ওভারের ফরম্যাট থেকে অনেক আগেই অবসর নিয়েছেন মাশরাফি। আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে সাকিব আল হাসানকে। ব্যক্তিগত কারণে অনুপস্থিত তামিম ইকবাল। ইনজুরিতে ম্যাচ থেকে দূরে সাইফ উদ্দিন। একসঙ্গে অনেকগুলো ধাক্কা। বিশেষ করে সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞায় ম্যুরাল ইনজুরিতে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ দলের জন্য এই বুস্ট-আপ দরকার ছিল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগের আট ম্যাচে ভারতকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে নিজেদের মাটিতে ভারত বরাবরই অপ্রতিরোধ্য। স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি আর দুর্ভাবনা নিয়েই দিল্লিতে পা রেখেছিল বাংলাদেশ দল। তার ওপর ছিল বায়ুদূষণজনিত বাধার শঙ্কা। কিন্তু সব শঙ্কা, অস্বস্তি আর দুর্ভাবনা দূরে সরিয়ে দল হিসেবে খেলে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় করল বাংলাদেশ। বোলিং, ফিল্ডিং, ব্যাটিং—তিন দিকেই অসাধারণ পারফরম্যান্স। নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও আঁটসাঁট ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ১৪৮ রানে আটকে রাখে ভারতকে। ১৪৯ রানের টার্গেট তাড়ায় আগ্রাসী অথচ দায়িত্বশীল ব্যাটিং তিন বল বাকি থাকতেই জয় এনে দিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছন্দময় ক্রিকেট জানিয়ে দিল হারিয়ে যায়নি বাংলাদেশ। তিন বছর আগে তিন বলে দুই রানের সহজ সমীকরণ মেলাতে না পারা মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহ এবার চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে মিলিয়ে দিলেন ৩ ওভারে ৩৫ রানের সমীকরণ।

তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে থেকে আগামী বৃহস্পতিবার রাজকোটে দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ১৪ নভেম্বর থেকে। বাংলাদেশ দলের জন্য আমাদের শুভ কামনা। আগামী দিনগুলোতেও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামবে দল—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা