kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছেই

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে চলুন

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছেই

নিরাপদ সড়কের দাবি অনেক দিনের। এ দাবিতে একটি সংগঠন কয়েক দশক ধরে কাজ করছে। আলোচনাসভা, মানববন্ধন অনেক হয়েছে। কিন্তু এসবের অভিঘাত খুব কমই পড়েছে সংশ্লিষ্টদের ওপর। গত বছর খুদে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নিরাপদ সড়কের দাবিতে প্রায় সপ্তাহব্যাপী আন্দোলন হয়েছে। তাতে সমর্থন জুগিয়েছে সাধারণ মানুষ। তার পরও সড়কে বিশৃঙ্খল অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। নিত্য সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, প্রাণহানি হচ্ছে। মঙ্গলবারও সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছে। তা-ও আবার নিরাপদ সড়ক দিবসে। ঘটনাগুলো ঘটেছে যশোর, পাবনা, বাগেরহাট ও নোয়াখালীতে।

মঙ্গলবার সকালে বাইসাইকেলে চড়ে স্কুলে যাওয়ার সময় যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের নতুন খয়েরতলা আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে ট্রাকচাপায় প্রাণ হারিয়েছে যশোর দাউদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মহিদুল ইসলাম লিয়ন। দুপুরে পাবনার চাটমোহরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইকোলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক চামেলীবালা। সাইকোলা ইউনিয়নের সবুজপাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। সকালে বাগেরহাটের কচুয়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ভ্যানচালক আব্দুর রব শেখ নিহত হন। মোরেলগঞ্জ-সাইনবোর্ড আঞ্চলিক মহাসড়কে শ্রীরামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটের করালিয়ায় সকালে বাসের ধাক্কায় নির্মাণশ্রমিক আব্দুর রহিম নিহত হন।

সড়কে দুর্ঘটনা কেন কমছে না, কেন শৃঙ্খলা ফিরছে না? কারণ অনেক। ফিটনেসবিহীন যান এখনো চলাচল করছে, ওভারটেকিংয়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়নি। এখনো ভুয়া লাইসেন্সে চালকরা গাড়ি চালাচ্ছে এবং অনেকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বড় রাস্তার পাশ থেকে হাট-বাজার সরানো হয়নি, ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থা যথাযথ নয়। শহরাঞ্চলে ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েও নিয়মনিষ্ঠ হয়ে ওঠেনি। রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে বখরা খাওয়া বন্ধ করেনি পুলিশ, ট্রাফিক নিয়মের ব্যাপারে চালক-যাত্রী-পথচারীর সচেতনতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নয় এবং মহাসড়কে হালকা ও স্বল্পগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা এখনো হয়নি। সড়কে দুর্ঘটনার আরো কিছু কারণ রয়েছে।

এ অবস্থার অবসান অবশ্যই হওয়া দরকার। মঙ্গলবার ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সড়ক-শৃঙ্খলায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে—চালক, পথচারী, যাত্রী যে-ই হোক। রাস্তায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। তাঁর কথা অমান্য করা হচ্ছে সন্দেহ নেই। কিন্তু কারা করছে? ভালো করে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, মূলত পরিবহন মালিক ও শ্রমিক, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থার লোকজন কাজটি করছে। যাত্রী-পথচারীও কিছু মাত্রায় দায়ী। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাত্রা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এত সময় কেন লাগবে, সেটা বড় এক প্রশ্ন। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে সড়ক-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা