kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আইডিয়াল স্কুলে তেলেসমাতি

দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করতে হবে

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেসরকারি স্কুলগুলোর মধ্যে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল একসময় বেশ সুনাম কুড়িয়েছিল। সে কারণেই এখনো স্কুলটিতে সন্তানদের ভর্তি করানোর জন্য অভিভাবকরা বেশ মুখিয়ে থাকেন। সেই সুযোগে স্কুলটির একাধিক শাখাও খোলা হয়েছে। যদিও কয়েক বছর ধরে স্কুলটির নানা অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে আসছে, তবু অভিভাবকদের একটি বড় অংশের পছন্দের তালিকায় এখনো রয়েছে স্কুলটি। গতকালের কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্কুলটির অনিয়মের অনেক তথ্যই উঠে এসেছে। বেরিয়ে এসেছে মহাক্ষমতাধর এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আতিকুর রহমান খানের আশ্চর্য শান-শওকতের খবর। উঠে এসেছে তাঁর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকা স্কুলের অধ্যক্ষ, একজন শিক্ষক ও গভর্নিং বডির একজন সদস্য (যিনি একটি হত্যা মামলারও আসামি) সম্পর্কে নানা তথ্য।

আতিকুর রহমান ২০০৪ সালে এই স্কুলে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেতনে তৃতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় ‘টেকনিশিয়ান’ হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এখন তিনি অঢেল সম্পদের মালিক। এখন তাঁর পরিচয় ‘ইঞ্জিনিয়ার আতিক’। এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জনবল কাঠামোতে না থাকলেও এখানে তাঁর পদবি হয়েছে ‘সহকারী ইঞ্জিনিয়ার’। বেতন পান মাসে ২৫ হাজার টাকা। ঢাকায় তিনি বেশ কিছু ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিক। আছে বেশ কিছু দোকান। ভিশন ৭১ নামে একটি ডেভেলপার কম্পানিরও মালিক তিনি। আইডিয়ালের একজন শিক্ষকও এই কম্পানির মালিকানায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রায় ৩০ বিঘা জমির ওপর রয়েছে বাগানবাড়ি ও পিকনিক স্পট। আরো বহু সম্পদ। আয়ের প্রধান উৎসগুলোর যেসব তথ্য পাওয়া যায়, তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীপ্রতি তিন লাখ থেকে চার লাখ টাকা নিয়ে তিনটি শাখায় বছরে হাজারখানেক শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে ভর্তি করানো, নিজের দরজি দোকান থেকে তিন ক্যাম্পাসের ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর ড্রেস বানাতে বাধ্য করা, নামে-বেনামে তিন ক্যাম্পাসেই ক্যান্টিন চালানো, স্কুলের সামনের ফুটপাতে শতাধিক দোকান বসিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় ইত্যাদি। স্কুলের নির্মাণকাজ ও কেনাকাটা সবই চলে নামে-বেনামে থাকা তাঁরই মালিকানাধীন ঠিকাদারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে। অবৈধ প্রক্রিয়ায় ভর্তির বিষয়টি জেলা প্রশাসনের তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। আতিকসহ ছয়জনের নাম উঠে আসে তদন্তে। মন্ত্রণালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়; কিন্তু আতিকের কিছুই হয়নি।

আমাদের ভাবতে কষ্ট হয়, একটি মাধ্যমিক স্কুল, যেখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতার ভিত তৈরি হবে, সেখানে এমন অনিয়ম-দুর্নীতি থাকলে সেই স্কুলে নৈতিকতার শিক্ষা এগোবে কিভাবে? দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা