kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাহালমের পর বাবলু শেখ

দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাঙ্গাইলের নিরপরাধ জাহালমের তিন বছর কারাভোগের মতোই আরেক কাণ্ড ঘটেছে এবার নাটোরে। সিংড়া উপজেলার আঁচলকোট গ্রামের শ্রীদেব দাসের ছেলে শ্রীবাবু ২০০১ সালের একটি মারামারির মামলার আসামি। ২০০২ সালে পুলিশ একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে বাবলু শেখকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ‘বিজ্ঞ’ আইনজীবী বাবলু শেখকে শ্রীবাবু হিসেবেই জামিনে মুক্ত করেন। ২০১৬ সালে মামলার রায়ে শ্রীবাবুকে দুই বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কাঠগড়া থেকেই বাবলু শেখকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় এবং দুই মাস পর বাবলু শেখ জামিন পান। গত বৃহস্পতিবার আপিলের রায়ে বাবলু শেখকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষণে আদালত বাবলু শেখের ঘটনাকে বহুল আলোচিত জজ মিয়া ও জাহালমের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন। এই ঘটনার জন্য আদালত দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন এবং রায় কার্যকর করে আদালতকে জানাতে বলেছেন। আদালত আইনজীবীদেরও সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং রায়ের কপি বার কাউন্সিলের সভাপতি ও সেক্রেটারির বরাবরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, বাবলু শেখ এ জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।

পুলিশ ও আইনজীবীদের অবহেলায় একজন নিরপরাধ ব্যক্তি দুইবার করে কারাগারে গিয়েছেন, দুই মাস কারাগারে কাটিয়েছেন, ১৭ বছর ধরে আদালতে ধরনা দিয়েছেন, আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবে চরম হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন—এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর কী হতে পারে? ওই গ্রামের সব মানুষই বাবলু শেখকে চেনে। পুলিশের পক্ষে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা মোটেও কঠিন কাজ ছিল না। একজন এসআই তাঁকে ধরে আনলেন, আরেকজন এসআই তদন্ত প্রতিবেদনেও তাঁকে ভুলভাবে উপস্থাপন করলেন—এর চেয়ে বড় দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আর কী হতে পারে? আদালতে বাবলু শেখ বারবার নিজের পরিচয় তুলে ধরে বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর সেই আবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এই ১৭ বছর বাবলু শেখের জীবনের অত্যন্ত মূল্যবান সময়, যা তিনি অপচয় করেছেন এক মিথ্যা মামলার পেছনে। এই ঘটনায় যার যেটুকু অবহেলা রয়েছে, তদন্ত করে তা নির্ধারণ করতে হবে এবং প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বাবলু শেখকে অবশ্যই এই ভোগান্তির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

পুলিশ বা অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার সদস্যদের এমন ক্ষতিকর অবহেলার ঘটনা অতীতেও অনেক ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে আরো কঠোর হতে হবে। আমরা আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না। আমরা চাই, বাবলু শেখের কাছে ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে তাঁকে সম্মানিত করা হোক এবং প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা