kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু

সততা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করুন

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার পুলিশ হেফাজতে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেণ্ডাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে। পুলিশ দাবি করছে, মৃত ব্যক্তি মাদক কারবারি, হাজতে লজ্জায় আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ আরো জানিয়েছে, আটক করার সময় তাঁর কাছ থেকে ২০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। যদিও চোলাই মদ সাংবাদিকদের দেখাতে পারেনি ফাঁড়ি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে পরিবারের দাবি, মৃত ব্যক্তি ছাগলের ব্যবসা করতেন। আটকের পর পুলিশ এক লাখ টাকা উৎকাচ দাবি করেছিল। টাকা না পেয়ে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী শামসুল হকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভেণ্ডাবাড়ী ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শকসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। তেমনি পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও প্রথম নয়। এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। অথচ পুলিশের কোনো বোধোদয় হয়েছে বলে মনে হয় না। থানা-পুলিশকে পুরো পুলিশ বিভাগের আয়না বলে ধরে নেওয়া হয়। থানার পুলিশের আচরণের মধ্য দিয়েই পুরো পুলিশ বিভাগের সদস্যদের চেহারা মানুষের কাছে ফুটে ওঠে। এই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। মিথ্যা অভিযোগে নিরীহ মানুষ আটক করে যেমন হয়রানি করা হয়, তেমনি মারাত্মক অভিযোগে অভিযুক্তদের কাছ থেকে উৎকাচ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও আছে তাদের বিরুদ্ধে। অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেই রয়েছে মাদক কারবারের অভিযোগ। সারা দেশের থানা ও ইউনিটগুলোতে কঠোর নজরদারির পরও তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বন্ধ হচ্ছে না পুলিশের অপরাধ। অথচ সরকারি চাকরিতে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই পুলিশকে অনৈতিক কাজ থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। ভেণ্ডাবাড়ী ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যে বাহিনীর সদস্যদের ওপর অর্পিত, সেই পোশাকধারী বাহিনীর সদস্যরাই যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে আশ্রয় চাইবে? কতিপয় সদস্যের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পুরো পুলিশ বাহিনী। কাজেই এই বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সততা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করতে হবে। তা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে সে দায় ও দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা