kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকায় আরো দুই মেট্রো রেল

বাস্তবায়নে জনভোগান্তি যেন না হয়

১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রকট এক সমস্যা। দিন দিন তা বাড়ছে। এ কারণে প্রতিদিন প্রচুর কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার, তবু যানজট নিরসনে সুফল মিলছে না। এর মূল কারণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা ও উদাসীনতা, ট্রাফিক নিয়ম না মানার মানসিকতা এবং যথাযথ পরিকল্পনার অভাব। বেশ কিছু উড়াল পথ তৈরি করার পরও যানজট কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমেনি। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি ও মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ চলছে এখন। আশা করা হচ্ছে, এসব কাজ সম্পন্ন হলে যানজট সমস্যার সমাধান অনেকটাই হবে, তার পরও সংশয় থাকে—হবে তো! বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণেই মানুষের এ সংশয়। তবু এগোতে হবে। ভবিষ্যৎ চিন্তা করে সরকার আরো দুটি মেট্রো রেলওয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খরচ হবে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা। গত মঙ্গলবার একনেক সভায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত মোট ৩১.২৪১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেট্রো রেল স্থাপন করা হবে ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১)’ প্রকল্পের আওতায়। ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে জাইকা ঋণ দেবে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। বাকি ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। এ বছর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। অন্যদিকে হেমায়েতপুর-আমিনবাজার-গাবতলী-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-কচুক্ষেত-বনানী-গুলশান-২-নতুনবাজার-ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৫ বাস্তবায়ন করা হবে। ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে জাইকা ঋণ দেবে ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। এ রুটের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ (আমিনবাজার-ভাটারা) এবং সাড়ে ছয় কিলোমিটার (হেমায়েতপুর-আমিনবাজার) এলিভেটেড পথ। এর কাজও চলতি বছর শুরু হবে, শেষ হবে ২০২৮ সালের মধ্যে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

মেট্রো রেলের রুট এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সর্বাধিক মানুষ এর সুবিধা পায়—এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তা-ই হওয়া উচিত। নির্মাণে বিভিন্ন স্থাপনা অক্ষত রাখার চিন্তাও করতে হবে। নির্মাণকালে বেশ অব্যবস্থাপনা লক্ষ করা যায়, যার ফলে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। এদিকে নজর রাখা জরুরি। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারাও বড় এক সমস্যা। সার্বিক বিবেচনায় মেট্রো রেলের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা