kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রশ্নের মুখে কৃষিশুমারি

তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশ্নের মুখে কৃষিশুমারি

যেকোনো শুমারি বা সেনসাসে বিবেচ্য বিষয়ের পুরোটাই আমলে নিতে হয়। জরিপ বা সার্ভেতে সব আমলযোগ্য নয়, বরং প্রতিনিধিত্বমূলক নমুনা বিবেচনা করতে হয়। ফলে আদমশুমারিতে সব মানুষকেই গণনা করতে হয়—কৃষিশুমারিতেও সব খানা বিবেচনায় নিতে হয়। বিবেচ্য মানুষ বা খানা গ্রাম ও শহর সবখানে থাকতে পারে। অতএব শহরাঞ্চলে কৃষিশুমারি করা হবে কি না, সেটি তর্কের বিষয় নয়। কাজটি কিভাবে করা হচ্ছে, কখন করা হচ্ছে—ব্যবস্থাপনায়, কর্মী প্রশিক্ষণে, বিবেচিত বিষয়ে যথাদৃষ্টি দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিই দেখার বিষয়। ডাটা ম্যানিপুলেশন হয়েছে কি না, সেটি দেখাও গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষিশুমারিতে কৃষিকাজে নিয়োজিত বা কৃষির ওপর নির্ভরশীল খানা ও খানার সদস্য, সদস্যসংখ্যা, আবাদি-অনাবাদি জমি, পুকুর-দিঘি, নার্সারি, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, মহিষ-ভেড়া, শাকসবজি-আনাজের জমি, আম-লিচু ও কাঁঠালগাছ বা বাগান, ব্যবহার্য কৃষিযন্ত্র ও উপকরণ প্রভৃতির তথ্য সংগ্রহ করা। সাধারণত এ শুমারির মূল ক্ষেত্র গ্রাম—শহরও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে কাজ যথাসময়ে (যখন অংশীজনদের সবাইকে পাওয়া সম্ভব এবং প্রাকৃতিক বাধা-বিপত্তি, যেমন—ঝড়-বাদল কম থাকে) করতে হবে। অন্যথায় সার্বিক তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয় এবং শুমারির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

জানা যায়, গত ৯ থেকে ২০ জুন দেশজুড়ে কৃষিশুমারি করে বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (বিবিএস)। এটি সর্বশেষ কৃষিশুমারি। ফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু এই শুমারির ব্যবস্থাপনা ও কার্যসম্পাদনের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডাটা ম্যানিপুলেশন বা তথ্যবিকৃতির অভিযোগও উঠেছে। কাজ শুরুর আগে মাঠকর্মীদের তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও দৈনিক ১২৫ টাকা করে প্রশিক্ষণ ভাতা দেওয়ার কথা। ভাতা দেওয়ায় অনিয়ম বা বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় উপকরণাদি অনেকে পায়নি। বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে কৃষিশুমারি সম্পন্ন হয়েছে। বিবিএসের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সব জরিপ-শুমারির সময় এমন অনিয়ম-বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে, যা কাম্য নয়।

দেশের কৃষক-জেলে-খামারিদের সহযোগিতা করার পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয় বিবিএসের কৃষিশুমারির মাধ্যমে। কৃষিভিত্তিক খানার সংখ্যা, শস্যের ধরন, ভূমির ব্যবহার, চাষের প্রকারভেদ, চাষের পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির সংখ্যা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এ শুমারিতে। কিন্তু শুমারি যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে এর ভিত্তিতে প্রণীত পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। বাংলাদেশে শুমারি বা জরিপ চালানোর যথাযথ সময় ডিসেম্বর থেকে মে মাস। কিন্তু সর্বশেষ কৃষিশুমারি গত ৯ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত সময়ে করা হয়েছে। তখন ছিল ভরা বর্ষাকাল। ফলে পর্যাপ্ত ও সঠিক তথ্যপ্রাপ্তিতে ঘাটতি থাকারই কথা। পূর্ববর্তী চারটি কৃষিশুমারি ডিসেম্বর-মে মাসেই করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, বাজেট না পাওয়ায় দেরি হয়েছে।

শুমারি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল কাজ। এর তথ্যের ওপর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। জন-আস্থা না থাকলে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ভরসা না থাকলে শুমারির কোনো মূল্য নেই। সংশ্লিষ্ট সংস্থার উচিত সঠিক ও গ্রহণযোগ্য শুমারি করে সরকার ও জনগণকে যথাযথ তথ্য দেওয়া।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা