kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রবৃদ্ধি ভারতকেও ছাড়াবে

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে। গত রবিবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে নেমে যাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০১৮ সালে থাকা ৭.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.১ শতাংশ হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সুখবর। এখন প্রবৃদ্ধির এই হার ধরে রাখার ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।

সারা বিশ্বেই এক ধরনের অর্থনৈতিক অস্থিরতা চলছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসও বলছে, এ বছর বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির হার ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে নেমে যাবে। গত এপ্রিলে যে অনুমান করা হয়েছিল, প্রবৃদ্ধি তার চেয়েও ১.১ শতাংশ কমে ৫.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৮.১ শতাংশ হওয়া অবশ্যই বড় ধরনের অর্জন। কিন্তু বিশ্বব্যাংকেরই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী বছর প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে গিয়ে ৭.২ শতাংশ হতে পারে। প্রবৃদ্ধি যাতে না কমে যায়, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় চিন্তাভাবনা ও উদ্যোগ এখন থেকেই নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো গার্মেন্ট বা তৈরি পোশাকনির্ভর। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের এই রপ্তানি খাত কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। যেকোনো সময় এই খাতের রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা বা স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। তখন মোট রপ্তানিতে যে ঘাটতি দেখা দেবে, তা পূরণ করার মতো সম্ভাবনা এখনো তৈরি হয়নি। অন্যান্য খাতের রপ্তানি প্রত্যাশামতো এগোচ্ছে না। কিছু খাতে বছরের পর বছর রপ্তানি আয় কমছে। এই খাতগুলোর উন্নয়নে আরো বেশি নজর দিতে হবে।

অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্বব্যাপী আবারও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, আগামী বছরই মন্দার লক্ষণগুলো স্পষ্ট হতে থাকবে। সেই মন্দার আঁচ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও পড়তে পারে। আমাদের মূল রপ্তানি তৈরি পোশাক হওয়ায় মোট রপ্তানির বড় অংশই আসে কয়েকটি উন্নত দেশ থেকে। সেসব দেশ মন্দায় আক্রান্ত হলে তাদের আমদানি কমে যেতে পারে। এর প্রভাব আমাদের রপ্তানি খাতে পড়তে বাধ্য। সে কারণে এখন থেকেই আমাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। আমাদের রপ্তানি বাজারের পরিধি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের তালিকা ও পরিমাণ দুটিই বাড়াতে হবে।

আশার কথা, পণ্যের পাশাপাশি আমাদের সেবা খাতের রপ্তানি আয়ও দ্রুত বাড়ছে। ভারতে এলএনজি রপ্তানির চুক্তি এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। বন্দরগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পারলে সেটিও আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের ওপর আরো বেশি মনোযোগ দিতে হবে। আমরা আশা করি, দেশের উন্নয়ন যে গতিতে এগিয়ে চলেছে, তা অব্যাহত থাকবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা