kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার বসবাসযোগ্যতা

মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শহরগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক র্যাংকিং অনুযায়ী এই শহরের বসবাসযোগ্যতা শূন্যের কাছাকাছি। যানজট, পরিবেশদূষণ, নিরাপত্তাহীনতা, বিনোদন বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অভাবসহ আরো অনেক বিচারে ঢাকার এই র্যাংকিং করা হয়েছে। তার পরও প্রায় দুই কোটি মানুষ এই শহরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ঢাকা মহানগরের বসবাসযোগ্যতা উন্নয়নের জন্য বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে বলেও মনে হয় না। শনিবার কালের কণ্ঠ-ওরিয়ন গোলটেবিল আলোচনায়ও বক্তাদের কণ্ঠে উঠে এসেছে ঢাকা মহানগরের দুর্বিষহ অবস্থারই চিত্র।

ঢাকার লোকসংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাড়ছে শহরের পরিধিও। কিন্তু হাউজিং সোসাইটির সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া না বর্তমানে, না অতীতে কখনো এই বৃদ্ধি পরিকল্পিতভাবে হয়নি। ফলে ঢাকার কেন্দ্রেও এমন অনেক এলাকা রয়েছে, যেখানে অ্যাম্বুল্যান্স, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি তো দূরের কথা, ছোট গাড়ি এমনকি রিকশাও ঢুকতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে কোলে করে নিয়ে আসার বিকল্প থাকে না। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা স্তূপ হয়ে থাকে। দুর্গন্ধে পাশ দিয়ে হাঁটা যায় না। বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে রাস্তাঘাট, গলি-ঘুপচি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তার পরও অহরহ চলছে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, প্রায় কেউই নিয়ম-কানুন মেনে চলে না। কয়েক দশকের পুরনো গাড়ি কালো ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে নগরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। শব্দদূষণও মারাত্মক পর্যায়ে। ধুলা ও ধোঁয়ায় নগরবাসীর দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়েছে। শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ প্রাণঘাতী সব অসুখ দ্রুত বাড়ছে। ফুটপাতগুলোতেও হাঁটার উপায় থাকে না। সবুজায়নের পরিমাণ দ্রুত কমছে, বাড়ছে অক্সিজেনের ঘাটতি। জলাধারগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নগরীর মধ্যে থাকা বহু খাল দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারিয়েছে। শিশু-কিশোরদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত জরুরি শারীরিক কসরত ও খেলাধুলার সুযোগ নেই বললেই চলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই শহরের বসবাসযোগ্যতার উন্নয়ন কিছু বিচ্ছিন্ন প্রয়াসের মাধ্যমে মোটেও সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা। পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে নগরের যে বৃদ্ধি প্রতিনিয়ত হচ্ছে, তাকে রোধ করে পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।

ঢাকার বসবাসযোগ্যতা উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা অনেক হয়েছে। বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনাসহ (ড্যাপ) ছোট-বড় অনেক পরিকল্পনাও হয়েছে। সেসবের সমন্বয়ে একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, দিন যত পেছাবে ঢাকার বসবাসযোগ্যতার উন্নয়ন তত বেশি কঠিন হয়ে পড়বে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা