kalerkantho

শনিবার । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৯ রবিউস সানি ১৪৪১     

চাঁদাবাজি তবু থেমে নেই

সর্বত্র শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদাবাজি তবু থেমে নেই

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযান দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়ে দেশে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে—এমন প্রত্যাশা জেগেছিল মানুষের মনে। কিন্তু শুদ্ধি অভিযানের প্রায় এক মাসের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে, শুরুতে কিছুটা গুটিয়ে গেলেও রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করা চক্রটি নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। অভিযুক্তদের অনেকেই গা-ঢাকা দেওয়ায় অভিযানের সার্থকতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো এলাকার চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গুলিস্তান ও কাপ্তানবাজার এলাকার বাসস্ট্যান্ড, লেগুনাস্ট্যান্ড ও ফুটপাতে চাঁদাবাজির একক নিয়ন্ত্রণ ছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের। ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযানে তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তাঁর সাম্রাজ্যে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। আগের মতোই প্রতিদিন ওই সব এলাকায় বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহন ও ফুটপাত থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া এলাকাসহ কাপ্তানবাজার এলাকায় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা নিয়মিত এই চাঁদা তুলছেন।

ক্যাসিনো ও জুয়াবিরোধী অভিযানে খালেদ ভূঁইয়া, জি কে শামীম, সম্রাট, আরমান গ্রেপ্তার হলেও অভিযোগ রয়েছে আরো অনেকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের অনেকেই দেশের বাইরে পালিয়ে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক কাউন্সিলর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযুক্তদের অনেকে লাপাত্তা, এলাকায় দেখা যায় না তাঁদের। অথচ একসময় আলোচিত এই নেতাদের দাপটে অন্যদের কথা বলার উপায় ছিল না। এই নেতাদের বিরুদ্ধে দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটিতে পদ বাণিজ্য করে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের অনেকেই এখন আর দলীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন না। বাড়িতেও পাওয়া যাচ্ছে না তাঁদের। অবৈধ ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার এক যুবলীগ নেতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ৮০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে চার থেকে পাঁচ বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সন্ধান মিলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই নেতা তাঁর আয়ের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করেছেন।

শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, দেশের সর্বত্রই এ ধরনের অনেক নেতার সন্ধান পাওয়া যাবে, যাঁরা গত কয়েক বছরে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। খোঁজ করলে দেশের অভ্যন্তরেই তাঁদের কোটি কোটি টাকার সন্ধান মিলতে পারে। দলের নাম ভাঙিয়ে নিজেদের বিত্ত-বৈভব গড়ে তোলা এ ধরনের নেতাদের কারণেই সাধারণ মানুষ রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হারিয়েছে। কাজেই এই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতেই হবে। একই সঙ্গে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করতে হবে। নিয়ে যেতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা