kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

আবরারের খুনিদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করুন

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

দেশে ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় অতীত থাকলেও পরবর্তীকালে সেই ধারা আর টেকেনি। ছাত্রসংগঠনগুলো, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ছাত্রসংগঠনগুলো মানুষের ভীতির কারণ হয়ে ওঠে। ছাত্ররাজনীতির নামে চলে সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ। এর কারণ ক্ষমতার প্রভাববলয়ে থাকা ছাত্র নামধারী দুষ্কৃতকারীরা বড় ধরনের অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়া। কিন্তু সে কারণে সামগ্রিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা কতটা যুক্তিগ্রাহ্য? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থই বলেছেন, মাথাব্যথার সমাধানে মাথা কেটে ফেলা নয়। যারা অপরাধ করবে তারা অপরাধী এবং অপরাধের শাস্তি তাদের পেতেই হবে। জাতিসংঘ ও ভারত সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গত বুধবার গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা পৈশাচিক। হত্যাকারীদের কেউ-ই রেহাই পাবে না।

সামরিক শাসকরা ছাত্ররাজনীতিকে ধ্বংস করার জন্য অনেক আগে থেকেই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চালিয়ে এসেছেন। পাকিস্তান আমলে এনএসএফ তৈরি করে ছাত্রদের দিয়ে গুণ্ডামি করানো হয়েছে। পঁচাত্তর-পরবর্তীকালের সামরিক শাসকরাও ছাত্রদের হাতে অর্থ ও অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন। ছাত্রদের হাত করতে তাদের প্রমোদ ভ্রমণে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। খুন করেও ছাত্রনেতারা পার পেয়ে গেছেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। বুয়েটে এর আগেও মেধাবী ছাত্রী সাবিকুন নাহার সনিসহ অনেকে নিহত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও অনেকে খুন হয়েছেন। কোনো হত্যাকাণ্ডেই খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি বলেই শিক্ষাঙ্গনে খুনাখুনি বন্ধ হচ্ছে না। ছাত্ররাজনীতির এই কলঙ্ক ঘুচাতে হলে আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে। আবরার হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে যুবলীগের অনেকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। একইভাবে ছাত্রলীগের অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলে ছাত্ররাজনীতির পুরনো ভাবমূর্তি আবারও ফিরে আসবে বলেই মনে করে দেশবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করেন যে শিগগিরই তিস্তা নিয়ে চুক্তি হবে। ত্রিপুরাকে ফেনী নদী থেকে দুই কিউসেকেরও কম পানি দেওয়া হয়েছে খাবার পানি হিসেবে। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিপুরাবাসী আমাদের যেভাবে আগলে রেখেছিল, তার তুলনায় এটা তো কিছুই নয়।’ তিনি অবাক হন এটা নিয়েও কিছু মানুষকে হৈচৈ করতে দেখে।

প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি দেশবাসীর আস্থা রয়েছে। দলীয় আগাছাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সেই আস্থার জায়গাটি নষ্ট করে। তাই সন্ত্রাস বা খুনাখুনির প্রতিটি ঘটনা শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা