kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

শুভ বিজয়া

সম্প্রীতির ধারায় শুভ শক্তির জয় হোক

৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুভ বিজয়া

মহালয়ায় ‘মহাশক্তি, মহামায়া, দুর্গতিনাশিনী’ দেবী দুর্গাকে মর্তে ‘নেমে’ আসার আহ্বানের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আশ্বিন শুক্লপক্ষের অমাবস্যার দিন মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনা আর দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিনে কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপূজার মধ্য দিয়ে। ষষ্ঠ দিন অর্থাৎষষ্ঠীতে বোধন, আর দশম দিন অর্থাৎদশমীতে বিসর্জন। দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা এই পাঁচ দিনই চলে। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভুজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে মর্তলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পক্ষকাল পিতার গৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। আশ্বিন শুক্লপক্ষের এই ১৫টি দিন দেবীপক্ষ, মর্তলোকে উৎসব।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেলতলায় ত্রিনয়নী দেবীর নিদ্রাভঙ্গের আবাহন অর্থাৎবোধনের মাধ্যমে এবারের দুর্গোৎসবের আচার পর্ব শুরু হয়। শুক্রবার বন্দনাপূজার সমাপন হয় বিহিতপূজায়। আবাহনের মাধ্যমে মূল মণ্ডপে দেবী আসীন হওয়ার পর সন্ধ্যায় দেবীর অধিবাস। শনিবার সকাল ১০টায় নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের পর মহাসপ্তমীপূজা। রবিবার মহাষ্টমীপূজা ও সন্ধিপূজা। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে হয়েছে কুমারীপূজা। সোমবার ছিল মহানবমী আর আজ মঙ্গলবার দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। একটি বছরের জন্য ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবী ফিরে যাবেন কৈলাসে দেবালয়ে। শাস্ত্র বলছে, সপ্তমী শনিবার এবং ফেরার দিন মঙ্গলবার হওয়ায় দুর্গা এবার আসছেন ঘোড়ায় চেপে, একই বাহনে তিনি ফিরবেন।

বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রাখার উৎকৃষ্ট উদাহরণ দুর্গোৎসব বাঙালির সাংস্কৃতিক মিলনসূত্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। দেবী দুর্গা মানুষকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করে সত্য, শুভ ও ন্যায়ের পথ দেখিয়ে দেন। চিরন্তন দিশারি হয়ে মানবের কল্যাণে এবং অশুভের ওপর শুভর বিজয়কে নিশ্চিত করেন তিনি। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার প্রাক-সন্ধ্যায় অর্থাৎশুক্লপক্ষের চতুর্দশীতে কাত্যায়নী মুনির কন্যারূপে মহিষাসুর বধের জন্য দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে।

ষষ্ঠীর দিন থেকে দেশজুড়ে শুরু হওয়া উৎসবের আমেজ পরের দিনগুলোতেও বজায় ছিল। সারা দেশ ছিল উৎসবমুখর। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নারী-শিশুসহ সব বয়সের মানুষের নির্বিঘ্ন ও নিঃশঙ্ক আনাগোনায় মুখর ছিল দেশের পূজামণ্ডপগুলো। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মানুষে মানুষে সব বিভেদ ও সংকীর্ণতা চিরতরে দূর হয়ে যাক। শক্তিশালী হোক মিলন ও সম্প্রীতির ধারা। সত্য, ন্যায় ও শুভ শক্তির জয় হোক। সবাইকে বিজয়ার শুভেচ্ছা, শুভ বিজয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা