kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

কারিগরি শিক্ষার করুণ হাল

শিক্ষানীতির যথাযথ বাস্তবায়ন দরকার

৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার চেয়ে সাধারণ শিক্ষা অনেক বেশি গুরুত্ব পায়। সাধারণ শিক্ষার বিশেষ গুরুত্ব অবশ্যই আছে, কিন্তু কারিগরি শিক্ষা অপাঙেক্তয় নয়। উন্নত দেশে অধিক মেধাবীদের সাধারণ শিক্ষায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বটে, তবে কারিগরি শিক্ষাকে অবজ্ঞা করে নয়। মেধাবীরাও কারিগরি শিক্ষায় যায়। তারা উচ্চতর শিক্ষায় যেতে পারে নিজ নিজ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল নিশ্চিত করে। সাধারণ শিক্ষায় যারা যায়, তারাও কারিগরি শিক্ষায় যেতে পারে। শিক্ষার দুটি ধারাই মর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু এ দেশে কারিগরি শিক্ষাকে এখনো তেমন সম্মানজনক দৃষ্টিতে দেখা হয় না। অথচ কর্মযজ্ঞের সঙ্গে কারিগরি শিক্ষার সংযোগ বেশি। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এ দেশে কারিগরি শিক্ষার অগ্রসর না হওয়ার বড় কারণ। আমাদের শিল্প খাতও তত বিকশিত নয়। ফলে চাহিদার ক্ষেত্রটিও সংকুচিত।

দীর্ঘদিন কারিগরি শিক্ষার দিকে রাষ্ট্রের তথা সরকারের খুব একটা নজর ছিল না। ফলে উন্নয়নের ধারায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এশিয়ায় দ্রুত উন্নতি করেছে এমন দুটি দেশ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। তাদের উন্নয়নের প্রধান কারণ কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন। সিঙ্গাপুরে এ শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৪০ শতাংশ। সরকার দাবি করে, বাংলাদেশে এ শিক্ষার হার ১৪ শতাংশ। বাস্তবে অনেক কম। ২০২০ সালের মধ্যে এ শিক্ষার হার ২০ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার, তবে সে অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি কাম্য মাত্রার নয়। এর কারণ পদ্ধতিগত। এ দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো কারিগরি শিক্ষাবিমুখতা রয়ে গেছে। অন্য দেশে প্রতিষ্ঠানই নির্ধারণ করে দেয় শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় যাবে কি না। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অন্য রকম। এখানে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ খুব কম; মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও কম। ইংরেজিতে তেমন জোর দেওয়া হয় না। এ যুগে নিজের ভাষার বাইরে অন্য ভাষা জানা দরকার। তার ব্যবস্থা নেই বলে শিক্ষা শেষ করে অনেকে ভালো চাকরি পায় না।

কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন করতে হলে সেকেলে ধ্যান-ধারণার বাইরে যেতে হবে। এ শিক্ষা দরিদ্র অথবা মেধায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য—এমন ধারণা ইতিবাচক নয়। এ খাতে মেধাবী লোকের অভাব রয়েছে, সরকারের বিনিয়োগও অপ্রতুল। এ অবস্থার বদল ঘটাতে হবে; সমাজকে সচেতন হতে হবে। নতুন বাস্তবতার নিরিখে কারিগরি স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা বা নবায়িত করতে হবে। উদ্ভাবক ও গবেষকদের সংশ্লিষ্ট করতে হবে। কর্মক্ষেত্রের চাহিদা বুঝে বিষয় নির্বাচন ও পাঠক্রম প্রণয়ন করতে হবে। ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতিতে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যথাযথভাবে এ নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা