kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

রেলওয়ের দুর্দশা

দুর্নীতি-অনাচার-অবহেলা দূর করতে হবে

৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেলওয়ের দুর্দশা

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বুলেট ট্রেন, উন্নত যাত্রীসেবাসহ কত স্বপ্নই না দেখানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মন্ত্রী পরম্পরায় বলা কথাগুলো একত্র করা হলে এবং সেগুলোর আংশিক বাস্তবায়িত হলেও বাংলাদেশ রেলওয়ের অবস্থা ইউরোপ-আমেরিকার যেকোনো দেশের রেলওয়ের সমকক্ষ হয়ে যেত। কিন্তু বাস্তবতা কী? ইউরোপ-আমেরিকা দূরে থাকুক, প্রতিবেশী দেশগুলোর রেলওয়ে সেবার তুলনায়ও আমাদের রেলওয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। এমনকি আগে যতটা সেবা পাওয়া যেত তার থেকেও পিছিয়ে পড়ছি আমরা। ট্রেনের গতি শুধুই কমছে। তার পরও উপর্যুপরি লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। ঘটছে অন্যান্য দুর্ঘটনাও। আর তাতে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গত জুন পর্যন্ত সাড়ে ১০ বছরে ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা চার হাজার ৭৯৮টি। প্রাণহানি হয়েছে ৩৯২ জনের। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে লাইনচ্যুতির ঘটনাই বেশি, ৭০ শতাংশের ওপর। ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনাও কম নয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রেলওয়েরই এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লালমনিরহাট ও পাকশী বিভাগে এক মাসে ইঞ্জিন বিকল হয়েছে ২৪ বার। আগের মাসে বিকল হয়েছিল ৩৬ বার। রেললাইনে পাথর কমে যাওয়া, একেবারেই না থাকা, মাটি দেবে যাওয়া, স্লিপার থেকে প্যান্ডেল ক্লিপ চুরি হওয়া, স্লিপার ভেঙে যাওয়া বা না থাকা, ফিশপ্লেট, নাটবল্টু খুলে নেওয়াসহ আরো অনেক কারণে ইঞ্জিন বা বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তাত্ক্ষণিক মেরামতের জন্য রেলওয়ের কিম্যান, ওয়েম্যান ও গ্যাংম্যান নামে নিজস্ব লোকবল আছে। একজন কিম্যান রেললাইনের এক পাশ দিয়ে দেখতে দেখতে দুই কিলোমিটার যাবেন এবং আরেক পাশ দিয়ে দেখতে দেখতে আসবেন। এটিই তাঁর কাজ। কোথাও ত্রুটি দেখলে তিনি তা ওয়েম্যানদের জানাবেন। তিনি ঊর্ধ্বতনদের জানিয়ে মেরামতের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এঁদের মাঠপর্যায়ে পাওয়া যায় না বললেই চলে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেল সেতুগুলো এতটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে সেগুলোর ওপর দিয়ে অনেক ঝুঁকি নিয়ে সাবধানে ট্রেন চালাতে হয়। তার পরও ঘটে দুর্ঘটনা। রেলওয়েরই হিসাবে সারা দেশে এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর সংখ্যা প্রায় ৩০০। এ রকম দুর্বল রেলপথ আর জরাজীর্ণ রেল সেতুতে ট্রেনের গতি বাড়বে কী করে? বাস্তবে রেলের গতি দিন দিনই কমছে। কমছে ট্রেন ভ্রমণের নিরাপত্তা।

রেলওয়ের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি শামুকের গতির সঙ্গে তুলনীয়। রেলের ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। রেলপথই শুধু নয়, ট্রেনের ইঞ্জিন, বগি রক্ষণাবেক্ষণেও রয়েছে চরম অবহেলা। নিয়মানুযায়ী প্রতি ট্রিপের পর ৪৫ মিনিট ইঞ্জিন পরীক্ষা, প্রতি দেড় মাসে একবার কারখানায় পরীক্ষা করার কথা। বাস্তবে দেখা যায়, বছরেও একবার ইঞ্জিন কারখানায় যায় না। অথচ রক্ষণাবেক্ষণের নামে অর্থ খরচ কম হয় না। অভিযোগ আছে, প্রায় পুরোটাই যায় দুর্নীতির পকেটে। এসব অনাচার থেকে মানুষের প্রধান পরিবহন রেলকে রক্ষা করতেই হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা