kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ

ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দ্রুত বাড়ছে। এ বছর ইউরোপের শীতপ্রধান দেশগুলোতেও তার আলামত দেখা গেছে। তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। এভাবে তাপ বৃদ্ধির কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমেই বেশি করে গলছে এবং সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ছে। এতে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ও অনেক দ্বীপ দেশ তলিয়ে যাচ্ছে। আর এতে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ ক্রমেই প্রবল হচ্ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলেও সমূহ বিপদের অনেক আলামত পাওয়া যায়। জোয়ারের পানি ক্রমেই বেশি করে বাড়িঘর ও জমিজমা তলিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। সেই গবেষণা মতে, ২০৫০ সাল নাগাদ বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে দশমিক ৫ মিটার। এতে সুন্দরবনের ৪২ শতাংশ এলাকা ডুবে যাবে। উপকূলীয় ১৯ জেলায় ২৫ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হবে। চার বছর মেয়াদি এই গবেষণায় স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের পানি, তাপমাত্রা ও অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

উপকূলীয় অনেক এলাকায় অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। অনেক শহরে জোয়ারের পানি ঢুকছে। নোনা পানির আগ্রাসনে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি দেশের মধ্যাঞ্চলেও ভূগর্ভে নোনা পানির উপস্থিতি বাড়ছে। মিঠা পানির উদ্ভিদ ও মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ২০৫০ সাল নাগাদ ২৫ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হওয়ার যে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, তা খুবই বাস্তবসম্মত। আর এটি যে ২০৫০ সালে গিয়েই ঘটবে তা নয়। প্রতিনিয়ত অবস্থা খারাপের দিকে যাবে। ২০৩০ সালে কিংবা তার আগেও অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকার অনেক মানুষ উদ্বাস্তু হতে পারে। উষ্ণায়নের আরো অনেক কুফল আমাদের ভোগ করতে হবে। পানিবাহিত এবং পানিকেন্দ্রিক কীটপতঙ্গবাহী রোগব্যাধি মহামারি আকারে দেখা দিতে পারে। যেমন—এ বছর ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ অনেক বেশি হয়েছে। সমুদ্রের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পরিমাণ ও তীব্রতা দুটিই বাড়বে। খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ স্থায়ী রূপ নেবে। আর এসবের প্রধান শিকার হবে দরিদ্র মানুষ। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিতব্য জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত প্রতিবেদনের খসড়ায়ও এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঠেকানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি। আমরা শুধু নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারি। লবণসহিষ্ণু কৃষির পরিমাণ বৃদ্ধি, উঁচু ও স্থায়ী বসতি নির্মাণ, সুপেয় পানির উৎস রক্ষার মতো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। উপকূল রক্ষা বাঁধগুলোকে আরো উঁচু ও মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। সরকারের ডেল্টা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতিও ত্বরান্বিত করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা