kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্বস্তি ফিরছে জনমনে

অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বস্তি ফিরছে জনমনে

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের নাড়া দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযান। রাজধানীর ক্লাবকেন্দ্রিক জুয়ার আসর ও ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। দুর্বৃত্তায়নের কারণে রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে মানুষের মনে একধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এ ধরনের অভিযান মানুষের মনে থেকে সেই ধারণা মুছে ফেলতে সহায়ক হবে।

একটি রাজনৈতিক দল যখন দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই দলে অনেক আগাছা-পরগাছার অনুপ্রবেশ ঘটে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ধনসম্পদ অর্জনই হয় এই অনুপ্রবেশকারীদের প্রধান লক্ষ্য। টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকা দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগেও অনুপ্রবেশ ঘটেছে। দলের নাম ভাঙিয়ে দখলবাজি-চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করে অনেকেই আখের গুছিয়ে নিয়েছে। সেই সাম্রাজ্যে হানা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে এই অভিযানে। অভিযান শুরুর পর থেকে গণমাধ্যমে যেসব খবর আসছে তা থেকে দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর ক্লাবকেন্দ্রিক সংস্কৃতি একেবারেই বদলে গেছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, সরকারি দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় ঢাকার স্পোর্টস ক্লাবগুলো ঘিরে কয়েক দশক ধরে রমরমা জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই জুয়ার আসরগুলোকে ক্যাসিনোতে উন্নীত করা হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় রাজধানীজুড়ে ক্যাসিনোর বিস্তার ঘটে। আবার এমন অভিযোগও আছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছিলেন কয়েকজন নেতা। অপরাধজগতের নানা দিকেই বিচরণ যুবনেতাদের। গত বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাব অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয় জি কে শামীমকে, যিনি নিজেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক পরিচয় দিতেন, যদিও যুবলীগ তা অস্বীকার করেছে। একই দিন রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পর চট্টগ্রামের বেশির ভাগ জুয়ার আসর ও বার বন্ধ হয়ে গেছে বলে খবরে প্রকাশ।

কিন্তু শুধু রাজধানী বা বন্দরনগরীতে অভিযান চালালে হবে না। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যারা সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে দখলবাজি-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজিতে সক্রিয় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। গতকালই কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাটে রেলওয়ের জমি দখল করে পাকা ভবন তুলছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। সেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কাঁকনহাট প্যারামেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড বঙ্গবন্ধু অল্টারনেটিভ হোমিও হাসপাতালের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনমনে আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনাসহ দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের অভিযানের বিকল্প নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা