kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

পুলিশের অপরাধপ্রবণতা

শুদ্ধি অভিযানের বিকল্প নেই

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের অপরাধপ্রবণতা

যেকোনো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেই দেশের পুলিশ। তারা যদি দক্ষ, দায়িত্বনিষ্ঠ ও সৎ হয়, তাহলে মানুষ নিশ্চিন্ত থাকে। সেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো বাধা থাকে না। অন্যথায় মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশা বাড়ে। বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্যই বলতে হবে, পুলিশের ভূমিকা নানা কারণে বিভিন্ন সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, বিগত এক বছরে সারা দেশে ১৪ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যের দুর্নীতিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের এভাবে একের পর এক দুর্নীতি-অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরও বিব্রত। দুর্নীতির এসব অভিযোগ তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় এরই মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, গত এক মাসে সারা দেশে আরো অন্তত ২০ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, এমনকি ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সেসব অভিযোগের বিভাগীয় তদন্ত হচ্ছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত আরেক খবরে বলা হয়েছে, ইয়াবা কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করার সময় গত রবিবার রাতে উত্তরার এপিবিএন-১ সদর দপ্তরের ব্যারাক ভবন থেকে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগে থেকেই মাদক কারবারে জড়িত ছিলেন এই পাঁচ পুলিশ সদস্য। ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি বিশেষ টিম খোঁজ নিতে শুরু করেছে, ডিএমপির অন্য থানাগুলোতে মাদক কারবারি কোনো পুলিশ সদস্য আছেন কি না।

দেশে নৈতিকতার অবক্ষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে যাচ্ছে। এমনটি চলতে থাকলে আইনের শাসন বাধাগ্রস্ত হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনী যদি অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় বা কিছু সদস্যের কারণে যদি পুলিশের মতো একটি সুসজ্জিত ও সুশৃঙ্খল বাহিনী প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে সেই বাহিনী দিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। পুলিশ বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্বেরও প্রতীক। আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করে সমাজে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করাই তাদের প্রধান কাজ। এই বাহিনীর কিছু সদস্য যদি জেনে-বুঝে অপকর্মে লিপ্ত হন, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু নেই। যে পুলিশ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে, তারাই যদি অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? কাজেই পুলিশ বাহিনীতে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তা অব্যাহত রাখতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা