kalerkantho

দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃষ্টি দিন

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

দেশের সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ অনেক পুরনো। ২০১৬ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ আরো একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বিত ‘ওয়াশ ইন হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটিজ গ্লোবাল বেইস লাইন রিপোর্ট-২০১৯’-এ বলা হয়েছে, মাত্র ১১ শতাংশ হাসপাতালে সঠিক মানসম্পন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু রয়েছে। বেসিক সিস্টেম হিসেবে বলা হয় সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত, সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ ও ধারালো ধরনের বর্জ্যের জন্য কমপক্ষে তিনটি পৃথক পাত্রে ভাগ করে পৃথক বর্জ্য রাখা এবং তা সঠিকভাবে অপসারণ ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি হাসপাতালের মাত্র ৯ শতাংশে ওই ব্যবস্থা ছিল। এ ছাড়া একই বছরের হিসাব মতে, ৪৭ শতাংশে স্বল্প আকারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছিল। ৪২ শতাংশ হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য কোনো নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ঢাকার দুটি এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেডিক্যাল বর্জ্য সংগ্রহ করে পোড়ানো হয় মাতুয়াইলে। ঢাকার আমিনবাজারে ডিএনসিসির ল্যান্ডফিলেও একটি এনজিও হাসপাতাল বর্জ্য ফেলে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনেরও মেডিক্যাল বর্জ্য পোড়ানোর নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। অন্য সব বর্জ্যের ভাগাড়ে হাসপাতাল বর্জ্য ফেলছে দেশের আট সিটি করপোরেশন। ওই সব সিটিতে দৈনিক গড়ে উৎপাদিত ২৫ টনের বেশি হাসপাতাল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে উন্মুক্ত ভাগাড়ে। উন্মুক্ত স্থানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ হাসপাতাল বর্জ্য ফেলায় মারাত্মক দূষণ ছড়াচ্ছে মাটি, পানি ও বায়ুতে। উন্মুক্ত স্থানে হাসপাতাল বর্জ্য ফেলার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে ভাগাড়ের আশপাশের মানুষ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতাল বর্জ্য আর অন্যান্য সলিড বা কঠিন বর্জ্য এক নয়। হাসপাতাল বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়, যা বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে পানি, মাটি ও বায়ুর ভয়াবহ দূষণ হচ্ছে। তাঁদের মতে, হাসপাতাল বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এসব বর্জ্যের জীবাণু মাটি, পানি ও বায়ুতে মিশে যায়, যা কখনো আলাদা করা যায় না। ফলে নানা ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ ছাড়া হাসপাতাল বর্জ্য রিসাইকল করে অনেকে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারেন। এটিরও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।

দেশের সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারি গড়ে না ওঠায় বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যে উদ্বেগ কাজ করছে, তা অত্যন্ত স্বাভাবিক। হাসপাতাল বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে ফেললে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। উন্মুক্ত স্থানে ফেলা বর্জ্য থেকে বৃষ্টি, পানি ও বাতাসের মাধ্যমে দূষণ ছড়ানো অস্বাভাবিক নয়, ছড়াচ্ছেও। এ দিকটি কঠোরভাবে নজরদারিতে আনা দরকার। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

মন্তব্য