kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাক্ষরতায় পিছিয়ে দেশ

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করুন

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাক্ষরতায় পিছিয়ে দেশ

নিজের নাম লিখতে বা সই করতে পারে এমন ব্যক্তিকে এখন আর সাক্ষরতার তালিকায় রাখা হয় না। আন্তর্জাতিক সংজ্ঞানুযায়ী এখন সাক্ষরতা বলতে বুঝায় লিখতে পারা, পড়তে পারা, গণনা বা হিসাব করতে পারা এবং যোগাযোগ স্থাপন করতে পারা। সেই হিসাবে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে পার্থক্য আছে। সরকারি হিসাবে দেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭৩.৯ শতাংশ। আর বেসরকারি হিসাবে তা ৫৭ শতাংশের মতো। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ সাক্ষরতার হার নিয়ে যে বৈশ্বিক তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে বাংলাদেশ ৬১.৫ শতাংশ সাক্ষরতার হার নিয়ে ১৩৯তম দেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে চারটি দেশ। শ্রীলঙ্কার হার ৯২.৬ শতাংশ (৮৩তম), ভারতের ৭১.২ শতাংশ (১২৪তম), ভুটানের ৬৪.৯ শতাংশ (১৩৩তম) এবং নেপালের হার ৬৩.৯ শতাংশ (১৩৬তম)। বাংলাদেশের নিচে রয়েছে পাকিস্তান (১৪৪তম, সাক্ষরতার হার ৫৭.৯ শতাংশ) ও আফগানিস্তান (১৫৫তম, সাক্ষরতার হার ৩৮.২ শতাংশ)। উন্নত দেশগুলোতে এই হার শতভাগ বা তার কাছাকাছি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে আমাদের এই হার শতভাগই করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

শুধু প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করলেও সাক্ষরতা অর্জন করা যায় না। ২০০২ সালের যে হিসাব পাওয়া যায়, তাতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তকারীদের এক-তৃতীয়াংশই ছিল অসাক্ষর। ছোটখাটো অঙ্কেও তাদের দুর্বলতা ছিল। পঠন-লিখনও মান অনুযায়ী ছিল না। সে কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সাক্ষরতা পর্যায়ের শিক্ষা ন্যূনতম সাত বা আট বছর হওয়া প্রয়োজন। কারো কারো মতে, সাক্ষরতার জন্য বিদ্যালয়ে ১০ বছর শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। ২০১৯ সালে এসে অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নয়ন খুবই ধীরগতির, বছরে মাত্র ০.৭ শতাংশ। এসডিজির লক্ষ্য পূরণ করতে হলে এই গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। সাক্ষরতার হার বাড়াতে সরকার যেসব পদক্ষেপ বা কর্মসূচি পরিচালনা করছে, সেগুলো নিয়েও অনেক অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রতিবছরই বাজেটে বড় ধরনের বরাদ্দ রাখছে। বরাদ্দ করা সেই অর্থ মূলত যাচ্ছে এনজিওগুলোর কাছে, যারা সাক্ষরতার হার বাড়াতে কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক এনজিও কাজ না করেই অর্থ লোপাট করছে।

নানা কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাক্ষরতা অর্জনে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তি এবং শতভাগ শিশুই যাতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। যেসব এনজিও সাক্ষরতা হার বাড়াতে কাজ করছে তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের কাজের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা