kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নতুন কারসাজি নয়তো!

এখন পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত দরকার

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন কারসাজি নয়তো!

দেশে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বরগুনায়। প্রকাশ্য দিবালোকে শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে হত্যা করা হয় তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে। মিন্নি এই মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। পরে তাঁকেই আবার মামলার আসামি করা হয়। সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন তিনি। সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র বা চার্জশিট গত রবিবার বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে এই অভিযোগপত্রে। বয়সের ভিত্তিতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের প্রথম খণ্ডে মিন্নিসহ ১০ জন আসামির নাম রয়েছে। দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামির নাম।

শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা মামলা ও পরবর্তী কিছু ঘটনা এই মামলার পেছনে শক্ত রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে অনেক আগেই। রাজনৈতিকভাবে মামলাটি প্রভাবিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে সেই রাজনৈতিক প্রভাববলয়টি এই মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বরগুনার আদালতে পুলিশ যে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেছে তাতে ছয় আসামি রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজী, জয় চন্দ সরকার ওরফে চন্দন, ওলিউল্লাহ ওরফে অলি, তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবণকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশু হিসেবে আদালতও তাদের সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এই ছয়জনের মধ্যে আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ গত বুধবার জামিন পেয়েছে। অথচ এই হত্যাকাণ্ডের পর বরগুনার পুলিশ সুপার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রিশান ফরাজীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন। পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের কপিতে রিশানের বয়স পুলিশ সুপার উল্লেখ করেননি। এর পরদিন রিশানের বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ আদেশেও রিশানের বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়। কিন্তু পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে বয়স কমে গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের শারীরিক গঠন দেখে মনে হয়েছে তারা প্রাপ্তবয়স্ক। সে হিসেবেই তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এমনকি তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। পরে ছয় আসামির পরিবার থেকে সরবরাহকৃত জন্মসনদ, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক। সে হিসেবেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দশম শ্রেণির ছাত্রকে কেন প্রাপ্তবয়স্ক দেখানো হয়েছিল? বিষয়টি বোধ হয় তদন্তের দাবি রাখে।  

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা