kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিশ্বে তৃতীয় নিকৃষ্টতম শহর

ঢাকার বসবাসযোগ্যতা উন্নয়নে পদক্ষেপ নিন

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা বসবাসের অযোগ্য, পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শহর, এখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই, মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরছে—বছরের পর বছর আমরা এই কথাগুলো শুনে আসছি। কিন্তু এর বসবাসযোগ্যতা উন্নয়নের কোনো প্রচেষ্টাই চোখে পড়ে না। বিশ্বের নিকৃষ্টতম শহরগুলোর তালিকায় আমাদের অবস্থান দুই-তিনের মধ্যেই থাকছে। এ বছরও অবস্থান একই রকম। লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দি ইকোনমিস্টের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) ১৪০টি শহর নিয়ে যে জরিপ করেছে, তাতে ঢাকার অবস্থান হয়েছে ১৩৮তম, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্বের তৃতীয় নিকৃষ্টতম শহর। ঢাকার পরে আছে সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর দামেস্ক (১৩৯তম) এবং নাইজেরিয়ার লাগোস (১৪০তম)। গত বছরও ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয় এবং ২০১৩ সালেও ছিল দ্বিতীয়। এটিই কি ঢাকার স্থায়ী রূপ হবে?

রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা, অপরাধের মাত্রা, নিরাপত্তাজনিত হুমকি, পরিবেশদূষণের মাত্রা, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মান, চিকিৎসা ও শিক্ষার সহজলভ্যতা, যোগাযোগ ও বিনোদনের সুযোগসহ যে ৩৯টি মাপকাঠিতে এই বিচার করা হয় তার কোনোটিতেই ঢাকার অবস্থান সুবিধাজনক নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুটা কমলেও বেড়েছে সামাজিক অস্থিরতা। খুন-ধর্ষণের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। পরিবেশদূষণ কমানোর কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ে না। পাড়ায় পাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষার মান এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। নাগরিকদের বিনোদন ও ভ্রমণের সুযোগ দিন দিন আরো সংকুচিত হচ্ছে। রোগব্যাধির প্রকোপ শুধুই বাড়ছে। এ অবস্থায় ঢাকার বসবাসযোগ্যতার উন্নয়ন হবে—এটা আশা করাও বাতুলতা।

২০১২ সালের তালিকায় জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে ছিল বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট শহর। ঢাকার চেয়ে সাড়ে ৪ নম্বর কম পেয়ে নিকৃষ্টের তালিকায় এক নম্বরে ছিল শহরটি। দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থারও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। তা সত্ত্বেও সেই হারারে শহরের অবস্থান এখন ঢাকার অনেক ওপরে। তারা এটি করতে পেরেছে নিছক আন্তরিকতার কারণে। আমরা পারিনি। পাকিস্তানে প্রতিদিনই তালেবান হামলার ঘটনা ঘটছে। আর্থ-সামাজিক অনেক দিক থেকেই দেশটির অবস্থা বিশেষ সুবিধাজনক নয়। তার পরও পাকিস্তানের নিকৃষ্টতম শহর হিসেবে তালিকায় থাকা করাচির অবস্থানও ঢাকার তুলনায় ভালো। আমরা প্রতিনিয়ত উন্নয়নের কথা বলি, কিন্তু রাজধানী শহরের এমন অবস্থা কেন?

নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রকে এ জন্য পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে হবে। শুধু দূষিত পরিবেশের কারণে বহু মানুষকে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ কঠিন অসুখে ভুগে মারা যেতে হয়। কর্মদিনের একটা বড় সময় অপচয় হয় যানজটে আটকে থেকে। নিরাপত্তার অভাব অনুভব করে দেশের প্রতিটি নাগরিক। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয়। রাজধানীতে থাকা খালগুলো ময়লার ভাগাড় হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। সেসব দিকে দৃষ্টি দিতে হবে এবং উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা আশা করি, ঢাকার বসবাসযোগ্যতা উন্নয়নে সরকার একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাবে।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা