kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সঞ্চয় খাতে সুখবর নেই

আস্থার সংকট কাটাতে ব্যবস্থা নিন

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সঞ্চয় খাতে সুখবর নেই

সাধারণ মধ্যবিত্ত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সঞ্চয় করে। সঞ্চয়ের টাকা নিরাপদ বিনিয়োগের জায়গাও খোঁজে। সব শ্রেণির মানুষই একটি সুন্দর আগামীর কথা মাথায় রেখে সঞ্চয়ে উদ্যোগী হয়। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় কোথাও নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারলে তা থেকে অর্জিত লভ্যাংশ মানুষের সংসারে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিতে পারে। ছোট অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জায়গা খুব বেশি বড় নয়। ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব, ডিপিএস বা এসডিপিএসের বাইরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে মানুষ। কিন্তু সেখানেও নানা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জায়গা থাকলেও রয়েছে আস্থার সংকট। সারা বিশ্বেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উৎস হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গা হলো পুঁজিবাজার। কিন্তু দেশের পুঁজিবাজার অস্থিতিশীল। গুজব আর অনাস্থার কারণে পুঁজিবাজার নিয়ে আতঙ্ক কাটছে না। স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও পুঁজিবাজারে কোনো উন্নতি নেই। প্রকাশিত সংবাদ বলছে, আস্থা সংকটে গত এক বছরে প্রায় ছয় লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার ছেড়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরেই আমানতের সুদহার নিম্নমুখী ছিল। এতে ব্যাংকে টাকা রাখা কমিয়ে দিয়েছে মানুষ। ব্যাংকের আমানতের চেয়ে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বেশি হওয়ায় গত কয়েক বছর শুধু নিম্নমধ্যবিত্তরাই নয়, সমাজের উচ্চবিত্ত ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও এর সুবিধাভোগী হয়েছে। এতে অস্বাভাবিকভাবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি সঞ্চয়পত্র কেনায়ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এখন থেকে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ই-টিন সনদ জমা দিতে হবে। টাকার পরিমাণ এক লাখের বেশি হলে অবশ্যই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য সঞ্চয়কারীর ব্যাংক হিসাব নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এ ছাড়া নতুন ফরম এবং ‘ম্যানডেট’ ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে পেনশনার সঞ্চয়পত্র ছাড়া অন্য সব সঞ্চয়পত্রের উৎস কর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৩৩ শতাংশ কম। দীর্ঘদিন পর ব্যাংক খাতে সুদহার কিছুটা বৃদ্ধির সঙ্গে আমানত বৃদ্ধি গতি না পেতেই ঋণের সুদ এক অঙ্কে নামানোর অজুহাতে সেখানেও ক্যাপ বা সুদের সর্বোচ্চ সীমা বসানোর চিন্তা করা হচ্ছে। ভালো ও মৌল ভিত্তির শেয়ারের অভাবে দুর্দিন চলছে পুঁজিবাজারেও। এভাবে দিন দিন সাধারণ মানুষের সঞ্চয় তথা বিনিয়োগের জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে।

কিন্তু এটা তো মানতে হবে, ‘সঞ্চয় সমৃদ্ধি আনে’। কাজেই সমাজের নিয়ামক সাধারণ মধ্যবিত্তকে সঞ্চয়ে আগ্রহী করতে হবে। তার জন্য বিনিয়োগের সর্বক্ষেত্রে আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা জরুরি। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি রোধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা