kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নদী-খাল-জলাশয়ের মরণদশা

জরুরি ভিত্তিতে সুরক্ষার ব্যবস্থা করুন

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের নদী-খাল-জলাশয় বিলীয়মান অনেক দিন ধরেই। বিলীন হতে থাকার কতক কারণ রয়েছে। একটি কারণ প্রাকৃতিক—ভাটির দেশ বলে উজানের পানির সঙ্গে প্রচুর পলি বাহিত হয়; সেগুলো সঞ্চিত হয় নদী-খালের তলদেশে, বিল-জলাশয়ে। নিয়মিতভাবে সেই পলি নিষ্কাশন করা হয় না। ভরাট হওয়ার এটিই বড় কারণ। দ্বিতীয় কারণ বন্যানিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ভূমিরূপ ও পরিবেশ-প্রতিবেশের কথা না ভেবে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণ। এর ফলে নদী-খালে পলি সঞ্চয়ন বেড়েছে। তৃতীয় কারণ সরকারি-বেসরকারি দখল ও নদী-খাল-জলাশয় ভরাট করা। কার্যত জলাভূমি বা জলপ্রবাহ দখলের মহোৎসব চলছে। দখল করার বিষয়টি আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কালের কণ্ঠ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভরাট-প্রক্রিয়ার কারণে রংপুর জেলার ২৯টি নদ-নদী-খাল মরণদশায় উপনীত। এ অবস্থার বিরূপ প্রভাব পড়েছে জেলার সমাজ, কৃষি, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যে। ভরাটের প্রাকৃতিক কারণ থাকলেও বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় দখলদারদের কর্মকাণ্ড। অভিযোগ রয়েছে, নদী সুরক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান। দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয় বটে, বাস্তবে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় না। ফলে দখলমুক্ত হয় না জলপ্রবাহ বা জলাধার। শ্যামাসুন্দরী খালের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে, রংপুর শহরে রোগমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য রংপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ও ডিমলার রাজা জানকী বল্লভ সেন ১৮৯০ সালে তাঁর মায়ের নামে খালটি খনন করেন। কয়েক দশক আগেও এটি স্থানভেদে ৬০ থেকে ১২০ ফুট চওড়া ছিল। এখন দখল ও ভরাটের কারণে প্রস্থ ১০-১৫ ফুটে নেমে এসেছে। ঠিকমতো সংস্কারও করা হয় না। সংস্কারের জন্য প্রায় ২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে মেয়রের বিরুদ্ধে। খালটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। শুধু শ্যামাসুন্দরী নয়, দুই হাজারের বেশি দখলদারের নানা তৎপরতায় রংপুরের অন্যান্য নদী-খালও মরণাপন্ন। জেলার ২৯টি নদী-খালের সবই ভরাটে শীর্ণ, দূষণে বিপর্যস্ত।

জলপ্রবাহ ও জলাধার ভরাট বা দখল হয়ে যাওয়ার কারণে বিবিধ সমাস্যায় পড়ছে দেশ ও মানুষ। নৌ-যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে; নৌ-ঘাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মৎস্যজীবীরা সংকটে পড়ছে, অনেকে পেশা ছেড়ে দিয়েছে; সেচের পানির অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্যও হারিয়ে যাচ্ছে।

জরুরি ভিত্তিতে এ অবস্থার অবসানের জন্য পদক্ষেপ না নিলে সমূহ বিপদ। আমরা আশা করি, নদী-খাল-জলাশয় রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো সমন্বিত ব্যবস্থা নেবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা