kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবার আক্রান্ত পুলিশ

অপচেষ্টা রুখতে তৎপর হতে হবে

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবার আক্রান্ত পুলিশ

আবার পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনা ঘটল। গত শনিবার রাতে রাজধানীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের ওপর এই বোমা হামলা চালানো হয়। ঘটনায় এক এএসআই এবং সড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পুলিশের ওপর হাতবোমা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের দায় স্বীকারের খবর এসেছে। জঙ্গি কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ বলেছে, বাংলাদেশের রাজধানীতে এই বোমা হামলা আইএস চালিয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে, যদিও শনিবারের ঘটনায় আইএসের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে করছে না পুলিশ সদর দপ্তর।

বাংলাদেশে আইএস নেই, সরকারপক্ষ থেকে বরাবরই এমন দাবি করে আসা হচ্ছে। পাশাপাশি এটিও দেখা যাচ্ছে, এ ধরনের যেকোনো বোমা হামলার পর আইএসের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হয়। আগেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোটখাটো কয়েকটি হামলার ঘটনার পর আইএসের নামে দায় স্বীকারের বার্তা এসেছে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এসব ঘটনায় আইএসের জড়িত থাকার কথা উড়িয়ে দিলেও কারা এগুলো ঘটিয়েছে, সেটি বের করতে পারেনি। দেশে আইএসের অস্তিত্ব না থাকলেও তাদের আদর্শের সঙ্গে সমমনা অনেক গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠী যে ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, তা এখন সবার কাছেই স্পষ্ট। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে পুলিশকেই টার্গেট করা হচ্ছে। গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ট্রাফিক ছাউনিতে ককটেল বিস্ফোরণে তিন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী ঢাকার মালিবাগের মোড়ে ২৬ মে রাতে পুলিশের একটি গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইসলামিক স্টেট বা আইএস।

একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা, দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলোর নতুন করে সংগঠিত হওয়ার খবর আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জঙ্গি-সন্ত্রাস বিস্তারের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের দাবি রাখে। ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বরাবর স্পষ্ট করেই বলে আসছেন, আইএসকেন্দ্রিক হুমকিতে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামরিক বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে কার্যকর সক্ষমতা অর্জন করেছে। হলি আর্টিজানে হামলা এশিয়ায় আইএসের তৎপরতার প্রাথমিক ইঙ্গিত বলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা। ছোট ছোট বোমা হামলা ও ঘটনার দায় স্বীকারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আইএসকে চাপিয়ে দেওয়ার কোনো অপচেষ্টা হচ্ছে কি না সেটিও ভেবে দেখা দরকার। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরো তৎপর হবে। বাংলাদেশকে কোনোভাবেই অপশক্তির চারণভূমি হতে দেওয়া যাবে না।


 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা