kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সড়ক দুর্ঘটনা থেমে নেই

শৃঙ্খলা ফেরাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোনোভাবেই শৃঙ্খলা আনা যাচ্ছে না সড়ক-মহাসড়কে। একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। আহতের সংখ্যাও কম নয়। এসব দুর্ঘটনায় কত পরিবার যে অসহায় হয়ে পড়ছে তার কোনো হিসাব নেই। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, মহাসড়কে শ্লথগতির যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার জন্য মূলত দায়ী। গত শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত ও ২৬ জন আহত হওয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ভাই ছিলেন সদ্য বিবাহিত। আত্মীয়ের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁদের নববধূরা। কী মর্মান্তিক!

সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে কত মানুষের প্রাণ যাচ্ছে তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গত জানুয়ারিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে একটি হিসাব দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে তিন হাজার ১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চার হাজার ৪৩৯ জন। আবার যাত্রী কল্যাণ সমিতি একই বছরের সড়ক দুর্ঘটনার যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে তার হিসাব ভিন্ন। তারা বলছে, ২০১৮ সালে সড়কে পাঁচ হাজার ৫১৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাত হাজার ২২১ জন। আহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট এআরআই সড়ক দুর্ঘটনার কারণসংক্রান্ত পুলিশের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বলছে, দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য। আর চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ৩৭ শতাংশ। পরিবেশ পরিস্থিতিসহ অন্য কারণে দুর্ঘটনার পরিমাণ ১০ শতাংশ। বেপরোয়া গতিই সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ হিসেবে মেনে নিয়ে ২০১৫ সালের অক্টোবরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক বৈঠকে গতি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কাউন্সিল মহাসড়কে বাসের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু তা আর বাস্তবায়ন করা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—প্রকৌশলগত নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং আইনের প্রয়োগ। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, বাংলাদেশে আইনের প্রয়োগ ও শিক্ষার জায়গাটা প্রায় শূন্যই বলা চলে। প্রকৌশলগত ত্রুটিও রয়েছে। 

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যানবাহনের মালিক-চালকদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। লাইসেন্সধারী বৈধ চালক নিয়োগের পাশাপাশি চালকদের শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনা করে দেখতে হবে। সড়ক থেকে তুলে দিতে হবে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও মালিক-চালকদের সদিচ্ছা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা