kalerkantho

নানামুখী দুশ্চিন্তায় মানুষ

কার্যকর নিয়ন্ত্রণ জরুরি

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নানামুখী দুশ্চিন্তায় মানুষ

ভয়াবহ বন্যার রেশ এখনো কাটেনি। ফসল, ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মানুষ দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়েও মানুষ দুশ্চিন্তায় রয়েছে। পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে—এমন গুজব ছড়ানোর পর ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনির অনেক ঘটনা ঘটেছে। উচ্চ শিক্ষিত এক গৃহবধূসহ অনেকেই গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা গেছেন। ভুয়া ভিডিও তৈরি, সামাজিক মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়াসহ পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়াতে গিয়ে অনেকে ধরাও পড়েছেন। তবু গুজব থামছে না। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে বেশ কিছু জঙ্গি আস্তানা খুঁজে পেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো। জঙ্গি সন্দেহে অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জঙ্গিরা আবারও বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে সারা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। তা নিয়েও চলছে দোষারোপ ও অতিরঞ্জনের অপচর্চা। সব মিলিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে আগে মানুষ একধরনের দুশ্চিন্তা ও শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ডেঙ্গু শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশেই মারাত্মক বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফিলিপাইনে ডেঙ্গুকে ‘মহামারি’ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৬২২ জন। আক্রান্ত হয়েছে লাখের বেশি। মালয়েশিয়ায় মৃতের সংখ্যা শতাধিক, আক্রান্তের সংখ্যা লাখের কাছাকাছি। অর্ধকোটি মানুষের দেশ সিঙ্গাপুরেও আক্রান্তের সংখ্যা আট হাজারের বেশি, মারা গেছে ৯ জন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় চলতি বছর এমন অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে আগেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছিল। অন্য সব দেশে একে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আমাদের এখানে পরিস্থিতি নিয়ে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি। সারা বিশ্বেই এখন জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ বড় আশঙ্কার কারণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত সরকারের। তা না করে শুধু আশঙ্কার কথা বলা হলে তা জনমনে বরং ভিন্ন অর্থই তৈরি করে। গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। গুজব থেকে মানুষ যাতে গণপিটুনিতে অংশ না নেয়, সে জন্য মানুষকে সচেতন করতে হবে। আইনের প্রতি মানুষ যাতে শ্রদ্ধাশীল হয়, কেউ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে জন্য আইনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অর্থনৈতিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সমানতালে এগোচ্ছে না। সে কারণেই কিছু মানুষের বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড সেই প্রাচীন যুগেই থেকে যাচ্ছে। তাই বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের মধ্যেও তারা এখনো বিশ্বাস করে কাউকে চাঁদে দেখা যায় কিংবা পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগে। ফলে সুযোগসন্ধানীরাও এ রকম অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিতে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করতে পারে। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থেই উন্নত দেশ করতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নকেও সমানতালে এগিয়ে নিতে হবে।

মন্তব্য