kalerkantho

থানায় ধর্ষণের অভিযোগ

দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। একের পর এক হত্যা-ধর্ষণের ঘটনা নাগরিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ব্যর্থতা উদ্বেগের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু ব্যর্থতাই নয়, খোদ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই এমন অপরাধের বহু অভিযোগ উঠছে। গতকাল মঙ্গলবারের পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, খুলনার রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) থানার ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তার নিরপেক্ষতা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে। পাশাপাশি প্রমাণ লোপাটের আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। দ্রুত এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। ঘুষ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করা, হয়রানির মাধ্যমে অর্থ আদায় করা, মাদক কারবারে পৃষ্ঠপোষকতা করার মতো বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ তো আছেই, সেই সঙ্গে রয়েছে ধর্ষণের অভিযোগও। ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ইয়াসমিনের ঘটনা এখনো স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগের পাশাপাশি যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে। ফেনীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনিও এখন কারাগারে রয়েছেন। যাদের হাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষ ভরসা করবে কার ওপর? তাই রেলওয়ে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করতে হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, কারো নৈতিক স্খলন হলে তা কোনো একটি অপরাধে সীমিত থাকে না, সেই ব্যক্তি সহজেই অন্যান্য অপরাধেও যুক্ত হয়ে যায়। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূকে আটকের পর সারা রাত থানা হেফাজতে রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে প্রথমে ওসি এবং পরে চার পুলিশ সদস্য তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরদিন পাঁচ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে সেই গৃহবধূকে মাদক পাচারকারী প্রমাণের চেষ্টা করা হয় এবং আদালতে চালান করা হয়। ওই গৃহবধূ আদালতে বিচারকের কাছে ধর্ষণের অভিযোগ করলে বিচারক তাঁকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠান। সোমবার পর্যন্ত ডাক্তারি পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়নি।

আমরা আশা করি, এ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। আইনের যারা রক্ষক তাদের সামান্য বিচ্যুতিও বড় উদ্বেগের কারণ হওয়ায় পুলিশ ও রেলওয়ের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি নজরদারি করতে হবে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

মন্তব্য