kalerkantho

এক অঙ্কের সুদহার

দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




এক অঙ্কের সুদহার

এক বছরের বেশি সময় ধরে কথা হচ্ছে, ব্যাংকঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা হবে। এ নিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের মালিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, শিগগিরই ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা হবে। অর্থাৎ প্রদত্ত ঋণের সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। এ জন্য বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে সরকারিভাবে বেশ কিছু সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে খুব কমসংখ্যক ব্যাংকই সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বেসরকারি ৪০টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুদহার-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হবে। সব ব্যাংককেই তা মানতে হবে।

দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার নানাভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে বড় বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে ঋণের উচ্চ সুদহার। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, এত উচ্চ হারে সুদ দিয়ে লাভজনকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এতে একদিকে যেমন খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়বে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোও খেলাপি ঋণের লোকসান কাটিয়ে উঠতে ক্রমান্বয়ে সুদহার বাড়িয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতি অর্থনীতির জন্য মোটেও সুখকর নয়। অথচ দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। আর তা করতে হলে ব্যাংকিং খাতকে উন্নয়নের সহায়ক খাত হিসেবেই থাকতে হবে। এসব কারণে ব্যাংকঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বারবার ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকগুলো যেসব সুবিধা চেয়েছিল, তার প্রায় সবই পূরণ করা হয়েছে। তার পরও সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে না আনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬টি ব্যাংক ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এক অঙ্কের সুদ নিচ্ছে। আমরা আশা করি, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী শিগগিরই তা এক অঙ্কে নেমে আসবে।

দেশের ব্যাংকিং খাত এখনো নানা সমস্যায় জর্জরিত। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে নানা ধরনের হস্তক্ষেপের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতিও বড় ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থা থেকে ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করতে হবে। অর্থমন্ত্রীও বলেছেন, টাকা মেরে দেওয়ার লক্ষ্য থেকেই যাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নেন, সেই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কোনোভাবেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি এ ক্ষেত্রে আইনের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, তার মধ্যেই আমরা চেষ্টা করছি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে। এ ক্ষেত্রে আমরা নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছি। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরাও চাই, এক অঙ্কের সুদহার বাস্তবায়নে দেশের ব্যাংকিং খাতকে বিনিয়োগবান্ধব করে গড়ে তোলা হোক। এ খাতের স্বাভাবিকতা রক্ষায় সব রকম দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

মন্তব্য