kalerkantho

স্থলবন্দরে শুল্ক ফাঁকি

কঠোর শাস্তি ছাড়া অনিয়ম বন্ধ হবে না

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা নতুন নয়। স্থলবন্দর, নৌবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর—সব বন্দরেই শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটছে। আমদানি-রপ্তানিকারকরা সব সময় চেষ্টায় থাকে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার জন্য, আর শুল্ক কর্মকর্তারা মুখিয়ে থাকেন সহায়তা জোগানোর জন্য। লাভ উভয় পক্ষের, ক্ষতিটা শুধু সরকারের তথা রাষ্ট্রের এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের। যে কয়টি খাতে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম-দুর্নীতি হয় শুল্ক খাত সেসবের একটি। আর যেসব স্থলবন্দরে শুল্ক ফাঁকির ঘটনা বেশি ঘটে, সেসবের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর পত্রপত্রিকার প্রতিবেদনের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এ দুর্নীতি-অনিয়ম রাষ্ট্রের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে; অবসানের আশু কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

কালের কণ্ঠ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। মূলত কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহায়তায় আমদানিপণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এবং ওজন কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। এ প্রক্রিয়ায় বন্দরে পণ্য খালাসের দায়িত্বে থাকা কিছু ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট জড়িত। গত ছয় মাসে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। ঘুষের টাকার বণ্টন হতো রাজশাহীতে, এক কাস্টমস কর্মকর্তার বাসায়। গত ২৪ জুলাই ঘুষ দিতে গিয়ে ওই বাসা থেকে গ্রেপ্তার হয় ছয়জন। কাস্টমস কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন। পুলিশের বক্তব্য, ওই বাসায় প্রতি রাতেই ঘুষের বাটোয়ারা হতো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িত চক্রের নেতা এক সংসদ সদস্যের ভাই। অভিযুক্ত ব্যক্তি অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সব অভিযুক্তই গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেন। অতঃপর অভিযোগের সত্যাসত্য নির্ধারণ তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। তবে বন্দরগুলোতে যে অনিয়মের ঘটনা ঘটে তা সর্বজনবিদিত।

জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ৬০০ ট্রাক ফল ভারত থেকে এসেছে। ফলসহ প্রতিটি গাড়ির ওজন ৩০-৩১ মেট্রিক টন; ফল ছিল ২১ থেকে ২২ মেট্রিক টন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা শুল্ক দিয়েছেন ১৭ থেকে ১৮ মেট্রিক টনের। প্লাস্টিক ক্যারেটের শুল্ক দেওয়ার বিধান থাকলেও তা নেওয়া হয়নি। কম ওজন অনুমোদন ও প্লাস্টিক ক্যারেটের জন্য শুল্ক না নেওয়ার বিনিময়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ফলের গাড়িপ্রতি ২০-৩০ হাজার টাকা ঘুষ পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ফলের ট্রাকপ্রতি ১০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিয়মে তিনটি পক্ষ জড়িত—ব্যবসায়ী ও ব্যবসা সহযোগী, কর শুল্ক কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট পক্ষ। মাঝেমধ্যে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হয়। কিন্তু তাতে দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ হয় না। কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারলে এবং ক্ষমতার সংযোগ বন্ধ করতে না পারলে দুর্নীতি বন্ধ হবে না।

 

মন্তব্য