kalerkantho

এ লজ্জা রাখি কোথায়!

তিতাসের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি হোক

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘটনাটি শুধু দুঃখজনকই নয়, অত্যন্ত লজ্জাকরও। জাতি হিসেবে আমরা তিতাসের পরিবারের কাছে যারপরনাই লজ্জিত। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিল। পরিবারের লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিতাসকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে ঢাকা নিয়ে আসছিলেন। কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ফেরিঘাটে এসে শুনতে পেলেন, একজন ভিআইপির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে, ফেরি ছাড়তে দেরি হবে। তিতাসের পরিবারের লোকজন সংশ্লিষ্টদের হাতে-পায়ে ধরে বহু অনুরোধ করলেন; কিন্তু কোনো লাভ হলো না। এভাবে তিন ঘণ্টা কেটে গেল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অ্যাম্বুল্যান্সেই তিতাস মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। এই মৃত্যুর জন্য তিতাসের মা-বাবাকে সান্ত্বনা জানানোর কোনো ভাষা আছে কি?

যেকোনো সভ্য দেশে অ্যাম্বুল্যান্স, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িকে আগে যেতে দেওয়া হয়। আমাদের দেশের আইনেও অ্যাম্বুল্যান্স পারাপার না করে ভিআইপির জন্য ফেরি আটকে রাখার কোনো বিধান নেই। তাহলে ফেরি কর্তৃপক্ষ কেন এমনটি করল? প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাহেব ফোন করে ঘাটসংশ্লিষ্টদের জানিয়েছিলেন, একজন ভিআইপি আসছেন। তাঁকে পারাপার করতে হবে। পরে জানা যায়, সেই ভিআইপি একজন যুগ্ম সচিব। তিনি তখনো অনেকটা দূরে ছিলেন। কিন্তু ডিসি সাহেবের আদেশ বলে কথা! ফেরি অনড় বসে থাকল। কেটে গেল তিনটি ঘণ্টা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা গেল তিতাস। এটা তো হত্যারই শামিল। সভ্যতার কোন পর্যায়ে আমরা আছি, তা ভাবতেও কষ্ট হয়। এ ঘটনায় একজন আইনজীবী তিতাসের পরিবারের জন্য তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেছেন। এর শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ‘ভিআইপি’ সুবিধা প্রযোজ্য নয় আর ফেরি পারাপারের মতো ক্ষেত্রে অ্যাম্বুল্যান্সকেই অগ্রাধিকার দিতে হয়। পাশাপাশি ওই স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। কিন্তু যত ক্ষতিপূরণই দেওয়া হোক, পরিবার কি তাতে সান্ত্বনা পাবে? মা-বাবা কি ফিরে পাবেন তাঁদের আদরের ধন তিতাসকে?

ক্ষমতার অপব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এর রাশ টানা জরুরি। ডিসি সাহেবের না-জানার কথা নয়, তাঁর কোনো আদেশের প্রতিক্রিয়া ফেরিঘাটে কী রকম হবে। যুগ্ম সচিব আসছেন, সেটা ফেরিঘাটকে এত আগে জানানো কি খুব জরুরি ছিল? শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, আমরা চাই, এই হৃদয়বিদারক মৃত্যুর ঘটনায় যার যতটুকু দায় আছে, তাকে সে পরিমাণ শাস্তির মুখোমুখি করা হোক। এটি এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করুক, যাতে ভবিষ্যতে একইভাবে আর কোনো তিতাসকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে না হয়।

 

মন্তব্য