kalerkantho

সড়ক-মহাসড়ক বেহাল

ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ব্যবস্থা নিন

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়ক-মহাসড়ক বেহাল

এবারও ঈদ যাত্রার শুরুতেই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে ঘরমুখো মানুষকে। কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, বর্ষা মৌসুমে দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো গর্ত আর খানাখন্দে ভরে যায়। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় বিস্তর লেখালেখিও হয়ে থাকে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তার আগে সেই সড়কে দুর্ঘটনায় হয়তো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। অনেক পরিবার পথে বসে। তার দায় কেউ নেয় না। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, এবারের বৃষ্টি ও বন্যায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়ক ও কেরানীহাট-বান্দরবান জাতীয় মহাসড়ক, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি জাতীয় মহাসড়ক, সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ, নেয়ামতপুর-তাহিরপুর, কচিরঘাটি-বিশ্বম্ভরপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক। সিলেট-মৌলভীবাজারের আঞ্চলিক মহাসড়ক, শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক, সিলেট-গোয়াইনঘাট মহাসড়ক, শ্যামপুর-দুর্গাপুর মহাসড়ক, রংপুর-কুড়িগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক, যশোর-খুলনা জাতীয় মহাসড়ক, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক। কুড়িগ্রামে ৭২ কিলোমিটার কাঁচা ও ১৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক স্থানে স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাইবান্ধা শহরের সড়কগুলোও পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যশোর অংশে ৩৮ কিলোমিটার বিধ্বস্ত হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ১৩টি স্থানে পিচ উঠে গেছে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের সৈয়দপুর, আউশকান্দি, রুস্তমপুর, সদরঘাট, দেবপাড়া ও বাহুবলের মিরপুরে বাস চলে ধীরগতিতে। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ১৭ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় আছে। এ ছাড়া ৬০ কিলোমিটার রেলপথ বন্যায় ক্ষতির মুখে রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরের আটটি রুটে ট্রেন চলাচলে ঝুঁকি রয়েই গেছে। সেখানে বিকল্প রুটে ট্রেন চলছে। জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার সেকশন ও জামালপুর-তারাকান্দি সেকশনের সরিষাবাড়ী-বয়ড়া স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে রেলপথ পানিতে তলিয়ে গেছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত কাজ করে রেলওয়ের প্রকৌশলীরা তা মেরামত করতে পেরেছেন। তবে বন্যার পানি সরে না গেলে স্থায়ী মেরামত করা যাবে না। 

ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারে হাত দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। বর্ষায় নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়ক-মহাসড়ক অবিলম্বে মেরামতের জন্য কাজ শুরু করতে হবে। যেসব জায়গায় স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা মেরামত করা জরুরি। বিশেষ করে মহাসড়কে যেকোনো সংস্কারকাজ শুরু করার আগে পাশে বিকল্প সড়ক নির্মাণের বিষয়টি চিন্তা করে দেখা যেতে পারে; যাতে কোনো অংশে ওয়ানওয়ে হয়ে গেলেও বিকল্প পথে যানবাহন চলাচল করতে পারে। সর্বোপরি বর্ষায় কিভাবে সড়ক-মহাসড়ক পানিমুক্ত রাখা যায় সে বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে। কারণ রাস্তায় জমে থাকা পানি সবচেয়ে ক্ষতিকর। ভাঙাচোরা রাস্তা যেন কোনো দুর্ঘটনার কারণ না হয় সেদিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। হাতে যে কদিন সময় আছে, এর মধ্যে যেটুকু সম্ভব রাস্তা মেরামত করা গেলে ঈদ যাত্রার দুর্ভাবনা অনেক কমবে। নিরাপদ ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য