kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

ঢাকায় মশারা কি অপ্রতিরোধ্য

নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার মশা কি অপ্রতিরোধ্য হয়ে গেছে? আপাতদৃষ্টিতে সেটাই মনে হচ্ছে। সিটি করপোরেশন মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ খুঁজে পাচ্ছে না। এর আগে মশার ওষুধ সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে শুধু বাতিল নয়, কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরপর পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ওষুধ পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, সেটিও তেমন কার্যকর নয়। তবু আরো এক মাস এই ওষুধই ছিটানো হবে। এখন কার্যকর ওষুধের খোঁজখবর করা হচ্ছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্যই পাওয়া যায়। জানা যায়, মশার ওষুধে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়, প্রায় সব উপাদানের প্রতিই মশাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে গেছে। ফলে এসব ওষুধে এখন মশা মরছে না। এদিকে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগব্যাধির বিস্তার ক্রমেই ব্যাপকতা পাচ্ছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিস্তার গত বছরের চেয়ে পাঁচ গুণেরও বেশি।

অ্যান্টিবায়োটিকের মতোই মশা নিধনে ছিটানো ওষুধ নির্ধারিত মাত্রায় নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়। কম মাত্রায় ওষুধ ছিটালে বা খুব অনিয়মিত ও বিক্ষিপ্তভাবে ছিটালে মশারা মরতে মরতে বেঁচে যায় এবং ক্রমে সেই ওষুধের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। মশারা প্রায় সব ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে ওঠার কারণ সম্ভবত সেটাই। অর্থাৎ অতীতে কার্যকরভাবে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়নি। খুব একটা পরিকল্পিতভাবেও তা করা হয়নি। উেস মশার বংশবিস্তার রোধ করার চেয়ে বাতাসে ওষুধ ছিটিয়ে (অ্যাডাল্টিসাইড) প্রাপ্তবয়স্ক মশা মারার বিক্ষিপ্ত প্রচেষ্টা খুব একটা কাজে আসেনি। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলো আরো বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা না চালিয়ে কীটতত্ত্ববিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি ক্র্যাশ প্রগ্রাম আয়োজন করতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, মশা মরুক আর না-ই মরুক মশার ওষুধে মানুষেরও ক্ষতি হয়, বিশেষভাবে ক্ষতি হয় শিশুদের। তাই বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত উদ্যোগের চেয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আর তাতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা অনেক বেশি জরুরি। রাজধানীর অনেক বাড়ির আঙিনায়, এমনকি ঘরেও মশা তৈরির রীতিমতো কারখানা রয়েছে। বাইরে ওষুধ ছিটালেও (লার্ভিসাইড) ঘরের ভেতরের উৎসগুলো ধ্বংস হয় না। অনেক বাড়ির আনাচকানাচে খানাখন্দ থাকে। টায়ার, ডাবের খোল, পরিত্যক্ত নানা রকম পাত্র ফেলে রাখা হয়। সেগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে এবং সেই পানিতে মশারা বংশবিস্তার করে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে কিছুটা কঠোর হতে হবে। যে বাড়িতে মশার এমন কারখানা পাওয়া যাবে, তাদের জরিমানা করা যেতে পারে। কারণ সেখানে জন্মানো মশা শুধু সেই ব্যক্তিরই ক্ষতি করছে না, আশপাশের অনেকেরই ক্ষতি ও ভোগান্তির কারণ হচ্ছে। আমরা চাই, সিটি করপোরেশনগুলো মশা নিধনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা