kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

বড় বন্যার আশঙ্কা

দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




বড় বন্যার আশঙ্কা

বর্ষায় প্রতিবছর উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। বসতবাড়ি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। পানিবন্দি মানুষ দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, দেশের ১৩ নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৩৬ ঘণ্টা ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চল, হাওরাঞ্চল ও বৃহত্তর চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বান্দরবানে সড়ক ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ধসে পড়ছে পাহাড়। সুনামগঞ্জের ছয় উপজেলা প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। উজানের ঢল আর অবিরাম ভারি বর্ষণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১৫ গ্রাম। এসব গ্রামের অন্তত পাঁচ হাজার পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কুড়িগ্রামে নদ-নদীতে পানি বাড়তে থাকায় শতাধিক চরগ্রামের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে উপদ্রুত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গাইবান্ধায় কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন শুরু হয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার পাঁচটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি, অসংখ্য গাছপালা ও উঠতি পাটসহ অন্তত ১০০ বিঘা জমি বিলীন হয়েছে। ওই সব গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। নদীর পার ও বেড়িবাঁধ ভেঙে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অন্তত ২০ গ্রামে পানি উঠেছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এ উপজেলায় ৬৭০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৫ হেক্টর জমির বীজতলা তলিয়ে গেছে। ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধের ১০টি স্থান ভেঙে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় অন্তত ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এবারের বন্যা বড় আকারে দেখা দিতে পারে। বন্যার সঙ্গে সঙ্গে আসে পানিবাহিত রোগবালাই। দেখা দেয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। এখন প্রধান কাজ বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া। খাদ্য ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করাও জরুরি। বন্যার পানির কারণে অনেক জায়গায় রাস্তা ডুবে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সেগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নিতে হবে। উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। উপদ্রুত মানুষের কাছে যাতে দ্রুততম সময়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করবে না।

মন্তব্য