kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

দুদক কর্মকর্তার নামে অভিযোগ

বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করার উদ্দেশ্য দুর্নীতি বন্ধ করা। এ কথা অনস্বীকার্য, দুর্নীতি দমনবিষয়ক কাজে পূর্বসূরি সংস্থার তুলনায় দুদকের ভূমিকা উজ্জ্বল। এরই মধ্যে দুর্নীতির বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত করে বিচারের জন্য উপস্থাপন করেছে সংস্থাটি। তবে যে হারে এ দেশে দুর্নীতি হয় তার নিরিখে সংস্থাটির তৎপরতা অপ্রতুল বলে মনে করে সাধারণ মানুষ। তবু তারা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। জনগণের আস্থাও বেড়েছে। এমন অবস্থায় সংস্থাটির কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা সুখকর বিষয় হওয়ার কথা নয়।

সম্প্রতি দুদকের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে পরিচালক বলেছেন, ঘুষ বিষয়ে পুলিশের একজন ডিআইজির সঙ্গে তাঁর আলাপের যে অডিও রেকর্ডের কথা বলা হয়েছে তাতে ব্যবহৃত কণ্ঠ তাঁর নিজের নয়। রেকর্ডটি বানোয়াট। তিনি যে দুর্নীতি করেছেন সেটা প্রমাণসাপেক্ষ।

একটি সম্পদ বিবরণী-সংক্রান্ত অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে দুদকের পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। পরিচালকের বক্তব্য, বিবরণীতে ডিআইজির ভাই ও ভাগ্নের সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। বরিশালে তাঁর আমেনা ভিলা নামে একটি বাড়ি রয়েছে। পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন হাউজিংয়ে ফ্ল্যাট, পুলিশ কনভেনশনে দোকান, ঢাকার জোয়ার সাহারায় প্লটসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছেন তিনি। ভাগ্নে ও ভাইয়ের নামেও সম্পদ গড়েছেন, কিন্তু সে তথ্য গোপন করেছেন। তাঁর চার কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারেও আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে, তাঁরও অবৈধ সম্পদ রয়েছে, যার কথা সম্পদ বিবরণীতে গোপন করা হয়েছে। ডিআইজির বিরুদ্ধে মামলার খসড়া করে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো মামলা হয়নি। অর্থপাচারের মামলাও হবে তাঁর বিরুদ্ধে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই ডিআইজি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে ডিআইজি দাবি করেছেন, তাঁর কাছে সব রেকর্ড আছে। কমিশনে ডাকা হলে তিনি সব রেকর্ড দেখাবেন। তিনি বলেছেন, পরিচালক বিভিন্নভাবে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন।

প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত পরিচালককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে দুদক। এটি কাম্য পদক্ষেপ। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এটিও যথাযথ কাজ। এখন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দরকার। দোষী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করি, দুদক তার সুনাম ধরে রাখবে।

 

 

মন্তব্য