kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

বড় বাজেট আসছে

প্রাধান্য পাক সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা

১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বড় বাজেট আসছে

‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের খসড়া বাজেট প্রস্তাব আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গত অর্থবছরের চেয়ে এবার বাজেটের আকার বড় হচ্ছে। বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটের আকার আগের সব রেকর্ড ভাঙছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিটি বাজেটই আকারে ছাড়িয়ে গেছে আগেরটিকে। এবার তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেটের আকারও আগের সব রেকর্ড ভাঙছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, প্রস্তাবিত পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত করের পরিমাণ ধরা হচ্ছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভুত করের পরিমাণ ধরা হচ্ছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আর কর ছাড়া প্রাপ্তি ধরা হচ্ছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদান ধরা হচ্ছে চার হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঙ্কের ভ্যাট বা মূসক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কিছু খাতে, বিশেষভাবে তামাক, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, গুল, মদ খাতে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তৈরি পোশাক খাত, আবাসন, ওষুধ, সিরামিক, প্রাকৃতিক গ্যাস, অটোমোবাইল, পুঁজিবাজারে বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আদায়ে গতি আনার চেষ্টা থাকছে বলেও জানা গেছে।

বাজেট হচ্ছে সরকারের এক বছরের আয়-ব্যয়ের আগাম হিসাব। সেবা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রের নাগরিকরা যে সেবা ও উন্নয়ন পেতে চান বা রাষ্ট্র যে সেবা নিশ্চিত করতে চায়, তা এই বাজেটের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়। বাজেটে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার ওপর নির্ভর করে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। শুধু অবকাঠামোগত নয়, সব ধরনের উন্নয়নই বাজেটের ওপর নির্ভরশীল। দেশের শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব খাতেই বরাদ্দ থাকে বাজেটে। শিল্প খাতের উন্নয়নে নেওয়া ব্যবস্থাদির উল্লেখ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রতিবছর বাজেটের আকার যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়ও। সে তুলনায় মধ্যম ও সীমিত আয়ের মানুষের আয় তেমন বাড়ছে না। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বাড়িভাড়া, শিক্ষা, পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাতে চলে যায় তাদের আয়ের বেশির ভাগ। সংসারের ব্যয় মেটাতে প্রতিনিয়ত যুদ্ধে নামতে হয়। প্রতিবছর বাজেটের আগে জনমনে একধরনের দুর্ভাবনা দেখা দেয়। বাড়িভাড়া, যাতায়াত খরচসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া নিয়েও মানুষের মনে একধরনের দুশ্চিন্তা ভর করে।

আজ যে বাজেট প্রস্তাব করা হবে, তাতে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে বলে আমরা আশা করি। সব দিক দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের কাজ। বাজেটে নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য