kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

কৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে

১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে একটি প্রশংসাযোগ্য ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাময়িকভাবে কৃষকদের স্বস্তি দিতে হলেও চাল আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বাজারে ধানের দাম পড়ে যাওয়ায় কৃষক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধানের মূল্যবৃদ্ধির জন্য চাল আমদানি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। এর আগে চাল আমদানি নিরুৎসাহ করতে আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়। এখন পুরোপুরি আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। যদিও গত কয়েক মাসে প্রচুর চাল আমদানি হয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গত ছয় মাসে আমদানি হয়েছে প্রায় ৩৭ লাখ টন। এলসি খোলা আছে আরো ১৬ লাখ টনের। দেড় বছরে আমদানি হয়েছে প্রায় ৬১ লাখ টন। বাম্পার ফলনের পর এই অতিরিক্ত চাল আমদানি কৃষকের সর্বনাশ করেছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত। এবার কৃষক মাঠে যে ধান উৎপাদন করেছে, তা রেকর্ড। বোরো মৌসুমে যেখানে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি ৪০ লাখ টন, সেখানে উৎপাদিত হয়েছে এক কোটি ৫৩ লাখ টন। ওদিকে বাজারে চাহিদা না থাকায় ধানের দাম পড়ে যায়। প্রতি মণ ধান চাষে যে খরচ হয়েছে তার চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে কৃষক। ক্ষোভে-দুঃখে দু-এক জায়গায় ধান ক্ষেতে আগুন এবং রাস্তায় ধান ফেলে প্রতিবাদও করা হয়েছে। বোরোর আগে আমন মৌসুমে সারা দেশে আমন আবাদ হয় ৫৫ লাখ ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে। আমনেও রেকর্ড উৎপাদন হয়েছে। ফলে যে পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়েছে, তাতে খাদ্য উদ্বৃত্ত হবে এবারও। সে ক্ষেত্রে নতুন করে চাল আমদানির কোনো প্রয়োজন পড়ে না।

দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষককে সরাসরি সরকারের নিরাপত্তা জালে নিয়ে আসতে হবে। কৃষকরা কে কোথায় কোন জমিতে ধান উৎপাদন করছে, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা কঠিন কাজ নয়। আবার কোন কৃষক কত টন ধান সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহ করবে, কৃষকের রোপণকৃত ধানের জমি ও উৎপাদনের পরিমাণের ভিত্তিতে মাঠ পরিদর্শন করে তা প্রাক্কলনের কাজটি কৃষি বিভাগ করতে পারে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে ‘কৃষি কার্ড’ প্রথার প্রচলন করার বিষয়টিও ভেবে দেখা যেতে পারে।  কৃষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে কৃষক যে বিপ্লব ঘটিয়ে দিতে পারে, তা বারবারই প্রমাণ হয়েছে। সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাববে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য