kalerkantho

সাজা কমাতে নতুন কৌশল

পরিবহন আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করুন

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ করা হয়। আইনে বলা হয়, সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর করবে। আইন করে গেজেট প্রকাশ না করায় গত ১০ এপ্রিল একটি সংগঠনের পক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আইনি নোটিশও পাঠানো হয়। সড়ক পরিবহন আইনে সাত দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের কথা বলা হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় আইনটি কার্যকর হয়নি। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকরের নির্দেশনা চেয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। এর পরই নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে গণপরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। চট্টগ্রামে এক বাসচালককে হত্যার ঘটনা এখন তাদের পুঁজি। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মঘটের পরিকল্পনা নিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। তাঁদের নেপথ্যের উদ্দেশ্য ভিন্ন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রোজার আগে দেশজুড়ে পরিবহন ধর্মঘট ডেকে সড়ক পরিবহন আইনে দুর্ঘটনায় অপরাধের শাস্তি ও জরিমানা কমাতে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চায় শ্রমিক ও মালিকদের সংগঠনগুলো। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এরই মধ্যে এ বিষয়ে ২৩৩টি শ্রমিক ইউনিয়নকে নির্দেশনা দিয়েছে বলেও খবরে প্রকাশ। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রামে গণপরিবহনে ধর্মঘট শুরুও হয়েছিল। রাতেই জেলা প্রশাসন শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৃহস্পতিবার দুপুরের আগেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় চট্টগ্রামের ধর্মঘট। ২৯ এপ্রিল সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট পালনের কথা রয়েছে।

সড়ক পরিহন আইন-২০১৮ নামে যে আইনটি করা হয়েছে, দেশের সাধারণ মানুষের কাছে তা প্রশংসনীয় হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে বলে ধারণা করা হয়। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে বলছে, দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো। চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে ঘটে ৩৭ শতাংশ দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো কিংবা চালকদের বেপরোয়া মনোভাব কেন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না?

গণপরিবহন যেকোনো কারণে বন্ধ থাকলে যাত্রীরা বিপদে পড়ে। সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। আর এই সুবিধাটি পুরোপুরি নিতে চান পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। দেশের প্রচলিত আইনকে অগ্রাহ্য করার এই প্রবণতা যে দেশের সরকারকে অগ্রাহ্য করার শামিল, এই বোধ কি তাঁদের আছে? যাত্রীদের জিম্মি করার এই কৌশল থেকে মালিক-শ্রমিকদের সরে আসা উচিত।  

মন্তব্য