kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

কেন এই সিদ্ধান্তহীনতা

পুরান ঢাকা রাসায়নিকের ঝুঁকিমুক্ত করুন

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। ঠিক সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন ঘটল চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হলে সেখান থেকে আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস সে সময় জানিয়েছিল যে আশপাশের দোকানে থাকা রাসায়নিক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। নিমতলীর স্মৃতিই যেন ফিরে আসে ফেব্রুয়ারির মধ্যরাতে। চকবাজারে আগুনের ঘটনার পর আবার নড়াচড়া শুরু হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। যেমনটি হয়েছিল নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর। ২০১০ সালে নিমতলীর সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জনের প্রাণহানির পর পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিল্প মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী প্রকল্প অনুমোদনের পর সেখানে জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু হয়েছিল। এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে কেরানীগঞ্জে নয়, রাসায়নিক শিল্প-কারখানা হবে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ৩১০ একর জায়গায়। নতুন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, নতুন রাসায়নিক শিল্প এলাকা করতে গেলে যে অবকাঠামো নির্মাণ করা দরকার, তা কেরানীগঞ্জে সম্ভব নয়। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জ এলাকাটিও ঘনবসতিপূর্ণ। সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস হচ্ছে। কাজেই রাসায়নিক শিল্প ওই এলাকায় নিরাপদ নয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, এসব বিষয় কি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাথায় আগে আসেনি? যেখানে রাসায়নিকের কারখানা কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় আট বছর সময় লেগেছে, সেখানে মুন্সীগঞ্জে কারখানা বা শিল্প এলাকা তৈরি করতে কত সময় লাগবে। এরই মধ্যে নতুন এলাকায় প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় আগের প্রাক্কলনের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কেরানীগঞ্জে জায়গা বরাদ্দ ছিল ৫০ একর, মুন্সীগঞ্জে জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে ৩১০ একর। কেরানীগঞ্জে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০১ কোটি টাকা, মুন্সীগঞ্জে ব্যয় হবে এক হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। প্রকল্প শেষ হবে ২০২২ সালে। ২০১০ সালে নিমতলীর ঘটনার পরই এসব ভেবে পরিকল্পনা করলে হয়তো এত দিনে কাজ শুরু করা যেত। এখন দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই পুরান ঢাকার রাসায়নিক ব্যবসায়ীরা সেখানে আরো কয়েক বছর থেকে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং বাসিন্দারা থাকবেন পুড়ে মরার শঙ্কায়।

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের কারখানা ও গুদাম দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ হোক পুরান ঢাকা।

মন্তব্য