kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

শেয়ারের দরপতন থামছে না

কারণ খুঁজে ব্যবস্থা নিন

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে সামগ্রিক প্রবণতা নিম্নমুখী। সোম ও মঙ্গলবার টানা দুদিন দরপতন হয়েছে। গতকাল বুধবার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর প্রধান সূচক কমতে শুরু করে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিএসইএক্স কমে ১৬ পয়েন্ট। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক কমে ৫৯ পয়েন্ট। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার কেনার আহ্বান জানালেও বাজার ঘুরে দাঁড়ায়নি। গতকাল ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) শেয়ার কিনে বাজারে গতি আনার চেষ্টা করে। তবে সকাল ১১টা থেকে নিম্নমুখী ধারা দেখা দেয় ডিএসইতে।

সোম ও মঙ্গলবারের দরপতন থেকে কোনো শেয়ার রেহাই পায়নি। ব্রোকারেজ হাউস সূত্র জানায়, বাজারে আস্থা ফেরাতে বিএসইসি চেষ্টা করেছে, তবে তেমন কাজে আসছে না। গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত লেনদেনের গতি অনেক কম ছিল; লেনদেন ছিল মাত্র ১১৪ কোটি টাকা। আগের দুদিনে ডিএসইতে সূচক কমে ৭৮ পয়েন্ট। মোট লেনদেন ছিল মাত্র ২৬৯ কোটি টাকা। সিএসইর সার্বিক সূচক কমে ১৮৮ পয়েন্ট। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ কার্যদিবসে ঢাকার শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কমেছে ২৭৩ পয়েন্ট। মঙ্গলবার ডিএসইর সূচক গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল।

শেয়ার বিক্রির চাপে সোম ও মঙ্গলবার ডিএসই ও সিএসইতে বড় দরপতন হয়। লেনদেন তলানিতে গিয়ে পৌঁছায়। বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দামও কমে যায়। মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান সূচক ৬০ পয়েন্ট ও সিএসইর সূচক ১১৫ পয়েন্ট কমে। ডিএসইতে লেনদেন হয় ২৬৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা; আগের দিন লেনদেন ছিল ২৯৬ কোটি দুই লাখ টাকা। সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমে যায়। ডিএসইর সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ২৪৮ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৭৬ পয়েন্টে ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২১২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। দাম বাড়ে ৫৯টি কম্পানির, কমে ২৫৩টির, আর অপরিবর্তিত থাকে ৩২টির শেয়ারের দাম। সিএসইতে লেনদেন হয় ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা; আগের দিন ছিল ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা।

শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতন আর্থিক ও সামাজিক পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। বিনিয়োগে আস্থা কমে যায়। বিশেষ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা চরম আস্থাহীনতায় ভোগে। এর ফল খুবই নেতিবাচক, ২০১০ সালের অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। আমরা আশা করি, সরকারসংশ্লিষ্টরা বিএসইসির মাধ্যমে এবং বড় বিনিয়োগকারীদের সহায়তা নিয়ে শেয়ারবাজারে গতি ফেরানোর চেষ্টা করবেন।

মন্তব্য