kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

বিশ্বে দ্বিতীয় প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে

মানবসম্পদ উন্নয়নে আরো জোর দিন

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানই তা প্রমাণ করে। সর্বশেষ স্বীকৃতি মিলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিবেদনে। বিশ্বে যেসব দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুত হচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৩ শতাংশ। তালিকার শীর্ষে রয়েছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশ রুয়ান্ডা। দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৮ শতাংশ। এর আগে বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ। অবশ্য বাংলাদেশ আশা করছে, এ বছর প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশের এমন অগ্রযাত্রা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের অবশ্যই আশান্বিত করে। অথচ একসময় বাংলাদেশের দারিদ্র্য নিয়ে আমাদের কত বিদ্রূপাত্মক কথাবার্তাই না শুনতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। আকারে-ইঙ্গিতে অনেকেই বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশ বলেছে। সেখান থেকে এই উত্তরণ শুধু অর্থনৈতিক উত্তরণ নয়, মর্যাদারও উত্তরণ। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় এক দশক আগের ৫০০ ডলার থেকে বেড়ে এক হাজার ৯০০ ডলার হয়েছে। আমরা নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বানাতে পারি। বিপুল ব্যয়ের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। বহু ক্ষেত্রেই আমাদের সক্ষমতা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। প্রবৃদ্ধির হিসাবে একসময় বাংলাদেশ বিশ্বে নয়, দক্ষিণ এশিয়ায়ও সবার নিচে ছিল। এ বছর শুধু ভারত আমাদের সমানে আছে। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপাল ৬.৫, মালদ্বীপ ৬.৩, ভুটান ৪.৮, শ্রীলঙ্কা ৩.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। আর ২৫ বছর ধরে আমাদের শোষণ করেছে যে পাকিস্তান, তার প্রবৃদ্ধি হবে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম, মাত্র ২.৯ শতাংশ। এটা আজ স্পষ্ট যে আমরা স্বাধীনতার সুফল পেতে শুরু করেছি।

বাংলাদেশে উন্নয়ন ও অগ্রগতির যে ধারা সূচিত হয়েছে, যেকোনো মূল্যে তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। যে মর্যাদা আমরা অর্জন করছি, তার মূল্য আমাদের বুঝতে হবে। উন্নয়নের পথে দুর্নীতি এখনো একটি বড় বাধা, তা থেকে দেশকে মুক্ত করতেই হবে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আরো বেশি জোর দিতে হবে। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবকাঠামো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অবকাঠামো উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, শুধু পদ্মা সেতু চালু হলেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দেড় শতাংশের মতো বেড়ে যাবে। আমাদের সুবিশাল সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে পারলে অবশ্যই ২০৪০ সাল নাগাদ উন্নত দেশের কাতারে শামিল হব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা