kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সচল হলো ডাকসু

চর্চায় বিকশিত হোক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



২৮ বছরের অচলায়তন ভেঙে সচল হলো ডাকসু। অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষের আন্দোলনের মধ্যেই গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম সভা। প্রতিটি হলে হয়েছে হল সংসদের অভিষেক। বলার অপেক্ষা রাখে না, ডাকসু নেতৃত্বের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যা ও সংকট অনেক। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবাসিক ব্যবস্থা করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবাসিক হলগুলোতে খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। হল পাঠাগার ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন আছে। রয়েছে পরিবহন সংকট। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সংস্কৃতিচর্চায় গতি ফেরানো থেকে শুরু করে শিক্ষা-গবেষণার মান বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ডাকসুকে খুব অল্প সময়ে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জটি ডাকসু নেতৃত্বকে মোকাবেলা করতে হবে, সেটা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। নতুন নেতৃত্বের জন্য এ সব কিছু চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে এ কারণে যে দীর্ঘদিন পর ছাত্রসংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে সক্রিয়। নির্বাচন নিয়ে সব সংগঠনেরই প্রশ্ন রয়েছে। আবাসিক হলগুলোতে আসনসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক শিক্ষার্থীকেই বাইরে থাকতে হয়। আবার হলে জায়গা পেতে হলে সুনির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের অনুসারী হতে হয়, এমন অভিযোগও আছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অনেক অসন্তোষ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব হচ্ছে, এমন অভিযোগও শুনতে পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে গুণগত মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাম্পাসের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডাকসুকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে, তেমনি সন্ধ্যাকালীন বিভিন্ন কোর্স নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চালানো এসব কোর্স উঠিয়ে দেওয়ার পক্ষে অনেকে। আবার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু নতুন নতুন গবেষণার কোনো উদ্যোগ কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে? এদিকগুলোও ডাকসুকে দেখতে হবে। আশার কথা, নতুন নেতৃত্ব আধুনিক মানসিকতার তরুণ। বিশ্ববিদ্যালয় যে বিশ্ব নাগরিক তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, এ বিষয়ে নিশ্চয় তাদের সম্যক ধারণা আছে। আধুনিকমনস্ক তারুণ্য নতুনত্বকে গ্রহণ করতে পারে। ডাকসুর নতুন নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সহাবস্থানের নতুন ধারা রচনা করবে, এটাই প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা