kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

চিকিৎসা শিক্ষার দুর্বলতা

মানোন্নয়নে মনোযোগ দিন

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিকিৎসা শিক্ষা আর দশটি সাধারণ শিক্ষার মতো নয়। এই শিক্ষা মানুষের জীবন-মরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। চিকিৎসকের সামান্য ভুলেও রোগীর মৃত্যু হতে পারে। অথচ দেশের চিকিৎসা শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। বলা হয়ে থাকে, বেসরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়গুলোর বেশির ভাগই শিক্ষার নামে বাণিজ্য করছে। সনদধারী চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়লেও মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে খুবই কম। শুধু এমবিবিএস ডিগ্রির ক্ষেত্রেই নয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রেও সঠিক মান বজায় না রাখার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠে  এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। স্বনামধন্য অনেক চিকিৎসকই স্বীকার করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের উচ্চশিক্ষায় বিদ্যমান নানা দুর্বলতার কথা। এই যদি হয় দেশের চিকিৎসা শিক্ষার হাল, তাহলে সাধারণ মানুষ ভরসা করবে কাদের ওপর?

সরকারের সেন্ট্রাল মেডিক্যাল এডুকেশনের (সিএমই) তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৯টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২২টি, স্বায়ত্তশাসিত সাতটি এবং বেসরকারি ১০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর মোট আসনসংখ্যা দুই হাজার ৮৪৬ হলেও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি হয় না। দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চাহিদা যে হারে বাড়ছে সে তুলনায় এই সংখ্যা অত্যন্ত কম। তার পরও তাঁদের শিক্ষায় যদি দুর্বলতা বেশি থাকে, তাহলে দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চাহিদা পূরণ হবে কিভাবে? জানা যায়, বেশির ভাগ উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এগুলো দেখা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত নজরদারি নেই বললেই চলে। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা যায় বেসরকারি উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। এগুলো চলেও নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা অনুসারে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই, শিক্ষা উপকরণ নেই, উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নেই, মানসম্পন্ন শিক্ষকেরও ঘাটতি রয়েছে। সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রয়েছে নানা ধরনের সংকট। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতেই শিক্ষকরা বেসামাল হয়ে পড়েন। আবার প্রাইভেট প্র্যাকটিসও অনেকে বেশি করেন। ফলে অনেক শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। শিক্ষকদের ঘন ঘন বদলিও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা হয়ে দেখা দেয়। সুযোগ-সুবিধারও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তাহলে উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষার এই সংকট কাটবে কিভাবে?

এমনিতে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কম। যাঁদের সামর্থ্য আছে তাঁরা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে চলে যান। আমরা কি এই আস্থাহীনতা কমানোর কোনো চেষ্টাই করব না? যাঁরা বিদেশে যেতে পারেন না, দেশেই চিকিৎসা করাতে বাধ্য হন, তাঁরা কি উন্নত ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রাখেন না? আমরা আশা করি, সরকার চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা