kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

নৈরাজ্য থেমে নেই

সব রুটে বিআরটিসির বাস নামান

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৈরাজ্য থেমে নেই

আইন মেনে চলছে না ঢাকার গণপরিবহন। বরং বলা যেতে পারে, আইন অমান্য করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ঢাকার গণপরিবহনের চালকরা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন গণপরিবহনের মালিকরাও। দিনের শেষে প্রাপ্ত টাকাটাই তাঁদের কাছে মুখ্য। আর এ কারণেই যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগ, দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও তাঁদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। আবার সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ক্ষেত্রবিশেষে নির্বিকার। কোনো ঘটনা ঘটলে তখনই শুধু নড়েচড়ে বসতে দেখা যায় পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাকে। গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহেও তাই দেখা গেছে আইন না মেনে বাস চলাচল করতে। রুট পারমিট নেই এমন বাসের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী। ওই স্পটে এখন একটি ফুট ওভারব্রিজ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একটি ফুট ওভারব্রিজ আবরারকে ফিরিয়ে দেবে না। একজন আবরারের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আরো অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বন্ধ করতে পারবে না। কারণ আইন না মেনে চলার অভ্যাস থেকে বাস মালিক ও শ্রমিকদের বেরিয়ে আসা কঠিন। অতিরিক্ত মুনাফার লোভ তাদের পেয়ে বসেছে। রাজধানীর বেশির ভাগ রুটে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থার কোনো বাস নেই। এসব রুটে বিআরটিসির বাস দেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগও দীর্ঘদিন থেকে দেখা যাচ্ছে না। ফলে ঢাকার গণপরিবহনে বেসরকারি বা ব্যক্তিমালিকানার বাসের দাপট। বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু সদস্যের কারণে ফিটনেসবিহীন বাস চলছে ঢাকার রাস্তায়। লাইসেন্সবিহীন চালকরাও প্রতিদিন পার পেয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে ঢাকার সড়কে ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে না।

বাংলাদেশে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা আছে। এই সংস্থাকে দীর্ঘদিন থেকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে বেসরকারি বাস মালিকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য। বিদেশ থেকে দামি বাস এনেও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়নি। অথচ সরকার ইচ্ছা করলে পারে না এমন কোনো কাজ নেই। শুধু সরকারের সদিচ্ছার কারণেই ঢাকার নদীর তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে। অনেক প্রভাবশালীর বহুতল ভবনও উচ্ছেদ অভিযান থেকে রেহাই পায়নি। তাহলে সামান্য কয়েকজন বাস মালিক কী করে ঢাকার সড়ক ও গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করছেন? সরকার কি এতই অসহায় যে তাঁদের আইন মানতে বাধ্য করতে পারছে না? ঢাকার গণপরিবহনের মালিকরা কি সরকারের চেয়েও ক্ষমতাশালী, নাকি সরকারের ভিত্তি এতই দুর্বল যে কয়েকজন বাস মালিক নাড়া দিলেই পড়ে যাবে?

সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—কয়েকজন বাস মালিক, না রাজধানীর মানুষ, কারা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের স্বার্থ দেখতে হবে। ঢাকার বাস রুটগুলোর তালিকা বিআরটিএর কাছে আছে। সব রুটে বিআরটিসির বাস নামালে গণপরিবহনের নৈরাজ্য এক দিনে বন্ধ হয়ে যাবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা