kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

শৃঙ্খলা ফিরুক সড়কে

নৈরাজ্য দূর করতে কঠোর ব্যবস্থা নিন

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শৃঙ্খলা ফিরুক সড়কে

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আবরারের মৃত্যু বেপরোয়া চালকদের সাবধান করতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের চলা আন্দোলনের মধ্যে গত বুধবার গাইবান্ধা ও যশোরে যন্ত্রদানবের চাকায় পিষ্ট হয়েছে তিন স্কুলছাত্রী। অথচ আট মাস আগে ছোটদের ‘বড় আন্দোলন’ সড়ক ব্যবস্থাপনার ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে ঘরে ফিরে গিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের জন্য ৯টি দাবি জানিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এসব দাবি বাস্তবায়নে যুক্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর যথাযথ সমন্বয় ও তদারকির অভাবে সাতটি দাবিই পূরণ হয়নি। আন্দোলনের পর গত বছরের আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বিআরটিএ ও মালিকপক্ষ কিছুটা তৎপরতা দেখিয়েছিল। এরপর সেই আগের অবস্থায় ফিরে গেছে দেশের সড়ক-মহাসড়ক। রাজধানীসহ সারা দেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এসব যানবাহন আবার তুলে দেওয়া হয়েছে লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে। বিআরটিএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি আছে পাঁচ লাখ ১১ হাজার ৩৪৮টি। এসব গাড়ির ৪১ শতাংশ রাজধানী ঢাকায় চলাচল করে। বিআরটিএ জানাচ্ছে, গত বছর সারা দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ছিল তিন লাখ। অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির অভাবে রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। বিআরটিএ সূত্র আরো জানাচ্ছে, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ গাড়ি চালানো হচ্ছে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া। এর প্রায় ৩০ শতাংশ চলছে ঢাকায়। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। বাড়ছে প্রাণহানি। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় ৬৬৬টি দুর্ঘটনায় ৬৯৯ জন নিহত এবং এক হাজার ২২৭ জন আহত হয়। এর মধ্যে বাসের কারণে ঘটা ৩৫৪টি দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো বাসেরই ফিটনেস ছিল না। আবার কোনোটির চালকের বৈধ লাইসেন্স ছিল না।

গত আগস্টে শিক্ষার্থীরা যে ৯টি দাবি জানিয়েছিল, সেগুলো যথার্থই যৌক্তিক ছিল। কিন্তু সেসব দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। বাস মালিক ও শ্রমিকদের বেপরোয়া মনোভাব দূর করা যায়নি। রাস্তা থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন তুলে দেওয়া যায়নি, বরং ফিটনেসবিহীন যানবাহন বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় এসব যানবাহন চলাচল করছে। তার অর্থ এই দাঁড়ায় যে যাদের এসব দেখার কথা, তারা দায়িত্বে অবহেলা করছে। কেন এমন হচ্ছে? নেপথ্যের কারণ কী, সেটা জানা দরকার। অনেকেই বলে থাকে, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মীরা সৎ হলে, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সড়কের নৈরাজ্য অর্ধেক কমে যাবে। মালিক-শ্রমিকরা সততার পরিচয় দিলে বাকি অর্ধেকও থাকবে না।

আমরা চাই সড়কের নৈরাজ্য দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিক। ফিটনেসবিহীন যানবাহন উঠে যাক সড়ক-মহাসড়ক থেকে। লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের মালিকদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। শৃঙ্খলা ফিরুক সড়কে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা