kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি

জনজীবনেও প্রভাব পড়ুক

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে প্রক-বাজেট আলোচনা শেষে গত মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে ৮.৫ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৮.১৩ শতাংশ। পাশাপাশি বছর শেষে মাথাপিছু জাতীয় আয় দাঁড়াবে এক হাজার ৯০৯ ডলার। আমাদের রপ্তানি আয় বেড়েছে। সেবা খাত প্রসারিত হয়েছে। কিছুটা হলেও বেড়েছে বেসরকারি বিনিয়োগ। এ কারণেই অর্থমন্ত্রী আশাবাদী, মূলত সেবা খাতের ওপর ভর করে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ঘর ছাড়িয়ে যাবে। অর্থমন্ত্রী আশা করছেন, আগামী অর্থবছর থেকে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আকর্ষণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনাও দেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী বাজেটেও মেগা প্রকল্পের জন্য বেশি বরাদ্দ রাখা হতে পারে। প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ হলে আমাদের অর্থনীতিতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।

মেগা প্রকল্পে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দিলে তার প্রভাব কী পড়তে পারে আমাদের অর্থনীতিতে, সে বিষয়ে ভেবে দেখতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে একটি বড় সংখ্যা বেকার। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কম। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে জিডিপিতে তার প্রভাব পড়ত। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগে আগের মতো জোয়ার নেই। বিনিয়োগকারীদের নানামুখী বিষয় চিন্তা করেই বিনিয়োগ করতে হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে সবারই দৃষ্টি থাকে। সবুজ অর্থায়নের সুযোগ বাংলাদেশ পুরোপুরি নিতে পারেনি। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা সৃষ্টির উদ্যোগও তেমন চোখে পড়ে না। ফলে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। অন্যদিকে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবে ব্যক্তি খাতেও বিনিয়োগ আসছে না। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একধরনের খরা চলছে। এসব দিক বিবেচনা করে নতুন বিনিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হলে অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অতীতের দিকে দৃষ্টি দিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে হয়। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী হলে তার প্রভাব সমাজে পড়বে। অর্থনীতির চাকা সক্রিয় ও সচল রাখতে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে, সৃষ্টি করতে হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।  

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা