kalerkantho

ভেজাল সব ক্ষেত্রে

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সক্রিয়তা একান্ত কাম্য

১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভেজাল নেই, এ দেশে এমন উপাদান এখন পাওয়া দুষ্কর; না থাকাটাই বরং বিস্ময়ের ব্যাপার। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভেজালের বিষয়টি নিয়মিতভাবে ক্রেতা-ভোক্তার, সরকারের নজরে আনছে গণমাধ্যম। খাদ্যে-ওষুধে-ফলে ভেজাল রোধের দাবি জানাচ্ছে জনস্বাস্থ্য নিয়ে সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু অবস্থার আমলযোগ্য পরিবর্তন ঘটছে না। মাঝেমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে অভিযান হয়, যেমন হয়েছে গত মঙ্গলবার। গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সদর থানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল খাদ্য ও ওষুধ জব্দ করেছে। এগুলো পশুপাখির খাদ্য এবং ওষুধ। প্যাকেটে ও বোতলে সুদৃশ্য লেবেল সেঁটে এসব পণ্য দেশে বাজারজাত করছিল তারা।

অভিযানের পরদিন প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, প্রতিষ্ঠানটির কোরিয়া থেকে টিলমারু সলিউশন নামের প্রোটিনদ্রব্য আমদানি করার অনুমোদন রয়েছে। লিটার-বোতলে করে এটি আনার কথা; কিন্তু তারা এক বোতল পরিমাণও আমদানি করেনি। নিজেরাই সেটি তৈরি করে ৫০০ মিলিগ্রামের বোতলে ভরে ‘মেড ইন কোরিয়া’ লিখে বাজারজাত করছিল তারা। আমদানি করা বিভিন্ন রাসায়নিক খুবই ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতবাড়িতে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক ব্যবহার করে গরু মোটাতাজাকরণের ইঞ্জেকশন, মাছ দ্রুত বড় করার খাবার, পশুখাদ্যে মেশানোর জন্য বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট, ভিটামিন, টিকা, অ্যান্টিবায়োটিক, পোল্ট্রির মুরগির ওজন বাড়ানোর জন্য সিনথেটিক পুষ্টিবর্ধক তৈরি করা হতো প্রতিষ্ঠানটির কারখানায়। এসব খাদ্য ও ওষুধ বাজারজাত করা হতো কোরিয়া বা ইউএসএ বা ভারতের তৈরি লেখা লেবেল লাগিয়ে। সাধারণ ক্রেতার বোঝার কোনো উপায় নেই যে এগুলো আসল নয়। নকল পণ্যও যে দক্ষ হাতে তৈরি করা, তা নয়। কারণ কারখানায় সনদপ্রাপ্ত কোনো রসায়নবিদ নেই। সবই হাতুড়ে উপায়ে তৈরি।

এসব ভেজালসামগ্রী জব্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু কাজটি শুধু জব্দ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যথাযথ তদন্ত করে তাদের বিচারের সম্মুখীন করা এবং শাস্তির ব্যবস্থা করাও ভেজাল রোধ প্রক্রিয়ার অংশ। সেখানেই সমস্যা হচ্ছে। কারণ এখন পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়নি। হয় তদন্ত ঠিকমতো হয় না অথবা ঠিকমতো তদন্ত হলেও পরবর্তী ধাপে প্রভাব-প্রতিপত্তি, রাজনৈতিক সংযোগ—এসবের প্রয়োগ ঘটে। পার পেয়ে যায় অপরাধীরা। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে ভেজাল থেকে মুক্তির আশা মানুষকে ছেড়ে দিতে হবে। সবই কপাল বলে মেনে নিতে হবে। মানুষের জীবন রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সদয় ও তৎপর হবেন কি?

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা