kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জনপ্রশাসনে দুর্নীতি

দুদককে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে

১৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনপ্রশাসনে দুর্নীতি

অর্থনীতির অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন, বাংলাদেশে উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি, বিশেষ করে জনপ্রশাসনের দুর্নীতি। তাঁদের মতে, দুর্নীতি নির্মূল নয়, উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো গেলেও জিডিপির প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ঘরে চলে যেত। শুধু উন্নয়ন বা প্রবৃদ্ধি নয়, জনগণের সেবাপ্রাপ্তির হারও অনেক বেড়ে যেত। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক কিছু চেষ্টা করছে। অনেক দুর্নীতিবাজকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। কিন্তু দেশে দুর্নীতির যে ব্যাপকতা, নৈতিকতার যে অবক্ষয় সর্বত্র দৃশ্যমান, সে তুলনায় দুদকের চেষ্টা অতি নগণ্য। তা সত্ত্বেও দুদক প্রশংসনীয় কাজ করছে। সর্বশেষ তারা রাষ্ট্রের মহাহিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংঘটিত দুর্নীতির একটি চিত্র তুলে ধরেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন এই কার্যালয়টি সরকারি ব্যয়ের যথার্থতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করে। বাস্তবে দেখা যায় উল্টোটা। অনিয়মের আখড়া হয়ে উঠেছে এই কার্যালয়টি। উেকাচের বিনিময়ে ভুয়া বিল-ভাতার অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ক্ষতি করা হচ্ছে। অন্যদিকে উেকাচ না দিলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দুর্ভোগে ফেলছে। দুদক এই কার্যালয়টিতে সংঘটিত দুর্নীতির ৩৩টি উৎস চিহ্নিত করেছে এবং তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ২১টি সুপারিশ করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি গত সোমবার অর্থমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানসহ আরো বেশ কিছু সংস্থা ও বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে দুদক আগেও এমন প্রতিবেদন দিয়েছে। এখন সেসব বিভাগ ও সংস্থার দায়িত্ব তাদের দুর্নীতি কমিয়ে আনা। একটি নির্দিষ্ট সময় পরে দুদক আবার দেখবে সেসব সংস্থা বা কার্যালয়ে দুর্নীতি কমেছে কি না। না কমলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ব্যর্থতাকে চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বে এক নম্বর দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ছিল। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলাসহ সমাজের সর্বত্রই দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছিল ভয়াবহভাবে। রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিগ্রস্ত থাকায় দুর্নীতির রাশ টানাও ছিল কঠিন কাজ। দুর্নীতি দমন ব্যুরো ও পরবর্তীকালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করা হলেও তা ছিল নামকাওয়াস্তে ও নখদন্তহীন। দুদক প্রথম সক্রিয় হয় দুই বছর মেয়াদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। এরপর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুদককে শক্তিশালী করার কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনো দুদকের শক্তি দুর্নীতির ব্যাপকতার তুলনায় কিছুই না। দুদককে আরো শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। দুদকের পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মরত অন্যান্য সংস্থাকেও জোরদার করতে হবে এবং সব সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা